বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ^ব্যাপী পণ্য বাণিজ্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় এ বাণিজ্য কমে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ^ বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই- সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পণ্য বাণিজ্য বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
বেশিরভাগ শিল্পাঞ্চলের পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো এখনো সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিকে উত্তর আমেরিকার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ১ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ইউরোপ ও এশিয়া। এ দুই অঞ্চলে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি হয় যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৩ ও ১০ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও অন্যান্য অঞ্চলে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও বার্ষিক হারে তা কম। উত্তর আমেরিকার রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, ইউরোপের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও অন্যান্য অঞ্চলে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রেও কেবল এশিয়া ব্যতিক্রম। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য আমদানি তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ দুই অঞ্চলে পণ্য আমদানি অস্বাভাবিক হারে কমলেও জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বেড়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৬ ও ১৫ শতাংশ। রপ্তানির মতো আমদানিতেও এগিয়ে এশিয়া। তৃতীয় প্রান্তিকে অঞ্চলটিতে আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। এর মাধ্যমে এশিয়ায় বেড়েছে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় এ সময় আমদানি আরও দশমিক ৭ শতাংশ কমলেও অন্যান্য অঞ্চলে বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। তবে বার্ষিক হারে আমদানি কমেছে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে। এসব অঞ্চলের আমদানি কমেছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বছরের শুরু থেকেই লকডাউনে যায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা। তৃতীয় প্রান্তিকে লকডাউন শিথিল হওয়ায় বৈশি^ক পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে করোনাকালে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করায়ও পণ্য বাণিজ্য কিছুটা বেড়েছে। তবে কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধি ও উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা বাস্তবায়নের অভাবে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনীতি এখনো বেশ দুর্বল। বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বৈশি^ক পণ্য বাণিজ্য ২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গোটা বছরের পণ্য বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কভিড-১৯ সংক্রমণের গতি ও পরিসংখ্যানের ওপর। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে বিশ^ব্যাপী করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, বিশেষ করে ইউরোপে। বৈশি^ক পণ্য বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এ অঞ্চলের দখলে।
