লটারির অর্থ জয়ের ভুয়া তথ্য দিয়ে বিকাশ এজেন্টদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছে রুবেল মাতুব্বর (৩৩), পারভেজ কবিরাজ (২০) ও মিরাজুল ইসলাম (২৪)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কোম্পানির ২০টি সিমকার্ড।
গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাইদ নাসিরুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামীকাল (আজ সোমবার) রিমান্ড শেষে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তাদের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছে। কীভাবে ও কাদের টাকা হাতিয়ে নিত সবিস্তার প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া সবার বাড়ি ফরিদপুরে কিন্তু প্রতারণার নেটওয়ার্ক সারা দেশেই বিস্তৃত। মূলত বিকাশ এজেন্টদের টার্গেট করে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ চক্রের বাকি সদস্যকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, একজন বিকাশ এজেন্টের ব্যবহৃত (বিকাশ এজেন্ট) অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১৮১০-০১৭৪৪৮ তে মোবাইল নম্বর ০১৮৮৮-০১৭৯১১ থেকে ফোন আসে। বিকাশ এজেন্ট ফোন রিসিভ করলে অন্যপ্রান্ত থেকে বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে যে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর আপডেট করতে হবে। টার্গেট করা বিকাশ এজেন্ট নতুন হওয়ায় এবং এত কিছু বুঝে উঠতে না পারায় ফোনটা কেটে দেন। তারপর মোবাইল নম্বর ০১৮৩৬-৪৪৯২৫২, ০১৩১২-৭২৮৮৮৫, ০১৮২৩-৮০৮৩৩২ ও ০১৩০৬-৪০০৯৮২ থেকে ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত (পার্সোনাল) অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১৭৬৮-৭৫২৭১৯ তে কয়েক মিনিট পরপর ফোন আসতে থাকে। ফোন রিসিভ করলে তারা বলে যে, আপনার অ্যাকাউন্ট আপডেট করার জন্য মেসেজ পাঠিয়েছি। বিকাশ প্রতিনিধি মেসেজ দেখে তাদের বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা ভেবে বিশ্বাস করেন। লটারি জেতার খবর পান। তারপর কৌশলে তার পিন নম্বর নিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।
সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইদ নাসিরুল্লাহ জানান, প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট করা ব্যক্তির টাকা হাতিয়ে নেয়। কখনো লটারি জেতা, কখনো বাড়ি কিংবা গাড়ি জেতা আবার কখনো মোবাইলে ভুল করে টাকা গেছে বলে ভুয়া বিকাশের মেসেজ দিয়ে আবার কখনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট আপডেট করতে হবে, না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন ধরনের নানা কৌশলে প্রতারণা করে থাকে। সর্বশেষ বিকাশ এজেন্টকে লটারি জেতার কথা বলে তার অ্যাকাউন্টে থাকা ৬৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্রের সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে প্রতারিত ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় গত ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল মাতুব্বর, পারভেজ কবিরাজ ও মিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
