সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় চলন্ত বাসে চালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে বাসের দরজা দিয়ে লাফিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন ওই ছাত্রী। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গত শনিবার সন্ধ্যায় দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই মেয়েটির বাবা বাসের চালক শহিদ মিয়া ও তার সহকারীসহ তিনজনের নামে দিরাই থানায় মামলা করেন। চালকের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার মোল্লাগাঁও গ্রামে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে দিরাই কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী। শনিবার বিকেলে সে সিলেটে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দিরাইয়ে নিজ বাড়ি আসার জন্য একটি বাসে (সিলেট জ-১১০৭২৩) ওঠে। বাসটি সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামে এলে অন্য যাত্রীরা নেমে যান। এরপর একা পেয়ে তার উদ্দেশ্যে খারাপ ইঙ্গিত করতে থাকে চালকসহ অন্যরা। এক পর্যায়ে সহকারীকে ডেকে গাড়ি চালাতে দিয়ে চালক মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সুযোগ পেয়ে বাসের দরজা দিয়ে সে লাফ দেয়। এ সময় গ্রামবাসী মেয়েটিকে উদ্ধার করে দিরাই হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে রাতেই তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গ্রামবাসী থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই বাসটি জব্দ করে। তবে চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার পলাতক রয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল বিকেলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. হিমাংসু লাল রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, মেয়েটি মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। এরপরও তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ধর্ষণচেষ্টার খবর জানাজানি হলে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে শনিবার রাতেই দিরাই শহরে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। আর গতকাল নারী নির্যাতন ও সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি মানববন্ধন থেকে দোষীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পাঞ্চালী চৌধুরী, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, তাহের আলী, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি প্রমুখ।
