উইন্ডোজ এক্সপিতে বাই ডিফল্ট ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের একটি ছবি কমবেশি আমাদের সবারই পরিচিত। এডিটেড মনে হলেও আসলে এটি চার্লস ও’রেয়ার নামে একজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় তোলা ছবি। বিশ্বে সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবির তালিকায় এটি শীর্ষে। ‘ব্লিস’ নামে বিখ্যাত ছবিটি নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
ব্লিস
স্নিগ্ধ সবুজ পাহাড়, ঝকঝকে নীল আকাশ, আকাশে খণ্ড খণ্ড মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে এমনই চিত্র ছবিটার। নিচের দিকে পাহাড়ের গায়ের সঙ্গে মিশে আছে সবুজক্ষেত। সবুজ পাতার ওপর ছোট ছোট বিন্দুর মতো দেখা যায় কিছু হলুদ ফুল। মনোমুগ্ধকর ঢালু পাহাড়ের ওপারে আবার দেখা যায় ছোট ছোট আরও কিছু পাহাড়। সব মিলিয়ে ছবির নাম ‘ব্লিস’। এর অর্থ ‘সুখ’। ছবির দিকে চোখ পড়লেই এক ধরনের ভালো লাগা অনুভূত হয়, তাই এমন নাম। তবে কিছু সমালোচকের মতে, ছবিটি একদম সাধারণ, এতে আগ্রহের তেমন কিছু নেই। আবার ছবির সমর্থকদের মতে, ঝকঝকে উজ্জ্বল একটি দিন, চমৎকার পাহাড়ি ঢাল সব মিলিয়ে ছবির নাম ব্লিস একদম সার্থক। সমর্থক-সমালোচকরা যে যাই বলুক না কেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবি এটি। তবে অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, ছবিটিতে যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সেটি আসল কি না। অনেকেই ভাবতেন কম্পিউটারে গ্রাফিকস বা ফটোশপের কাজ করা কোনো ছবি ব্লিস। হয়তো অনেকগুলো ছবিকে একত্র করে এটি বানানো হয়েছে। অথচ এতে কোনো ফটোশপ তো দূরে থাক, ক্যামেরায় তোলার পর কোনো ধরনের এডিটও করা হয়নি। Windwos XP program-এ ওয়ালপেপার হিসেবে ২০০১ সাল থেকে এই ছবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেছনের গল্প
ছবিটি তুলেছেন ফটোগ্রাফার চার্লস ও’রেয়ার। খুব কমসংখ্যক মানুষই এই সত্য জানেন। আড়ালেই ছিল চার্লসের গল্প। আমেরিকান এই ফটোগ্রাফার ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছবি তোলার নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে তার তোলা ২৫টিরও বেশি ছবি নিয়ে ফিচার করা হয়েছে। কানাডা, সাইবেরিয়া, সিলিকন ভ্যালি, ইন্দোনেশিয়া, ম্যাক্সিকান রিভারিয়ার মতো জায়গায় তার তোলা ছবিগুলো অনেক বিখ্যাত হলেও ‘ব্লিস’ তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। মাইক্রোসফট ২০০১ সালে ব্লিসকে ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহার শুরু করার পরের বছর সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবির তালিকায় চলে আসে। ব্লিসকে ভালোবাসার গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও বলা যায়।
ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে। সে সময় তার বয়স ছিল ৫৬ বছর। ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি তখন দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কাজের সূত্রে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে হয়। ভালো ছবি তোলার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই এ কথা সব সময় মানেন চার্লস। বিশেষ করে একজন ফটোগ্রাফারের জন্য সময় কখনো বাঁধা থাকে না। আর এ কারণেই চার্লস সব সময় সঙ্গে একটি ক্যামেরা রাখেন। ৯৫ সালের সে সময় গাড়িতে বান্ধবী ড্যানকে (বর্তমান স্ত্রী) সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন সান ফ্রান্সিসকোর উত্তর দিকে। মূলত ড্যানকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখানোর জন্যই দুজনে মিলে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা ও সানোমা দিয়ে যখন যাচ্ছিলেন, সে সময় তার চোখে পড়ে উজ্জ্বল সবুজ ঘাস, নীল আকাশ আর মেঘ। দৃশ্যটি তার বেশ ভালো লাগে। খুব সাধারণভাবেই অন্যান্য ছবির মতো তুলে ধরেন ক্যামেরায়। এরপর ইতিহাসের খাতায় নাম লেখায় বিশ্বখ্যাত ছবিটি। চার্লসের ভাষায়, ‘জানুয়ারির সে সময় ছিল শীতের মাঝামাঝি। তখন হুট করেই একবার বৃষ্টি হলো। ঘাসগুলো অসম্ভব সুন্দর সবুজ রঙের দেখাচ্ছিল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর মেঘের মধ্যেই বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। গাড়ি চালানোর সময় ড্যানকে এই সৌন্দর্য যখন দেখাচ্ছিলাম, তখনই ভেবেছি এই দৃশ্যের কিছু ফ্রেম তো আমাকে নিতেই হবে!’ ভাবতে ভাবতেই চার্লস সঙ্গে থাকা v Mamiya RZ 67 ফিল্ম ক্যামেরাটি বের করেন এবং ব্লিসকে ক্যামেরাবন্দি করেন।
পাহাড়ি ঢালের ছবি যে এই প্রথম চার্লস তুলেছেন, তা নয়। এর আগেও এমন দৃশ্য তোলার অভিজ্ঞতা তার আছে। কিন্তু এই ছবিটি সবার চেয়ে আলাদা, অনেক মূল্যবান। ‘যে জায়গায় ছবিটি তোলা হয়েছিল সেটি মূলত একটি পাহাড়ি এলাকা। এখানে পাহাড়গুলোতে ঢাল বেশি। আমি আগেও এখানে আরও ছবি তুলেছি। তবে Kodachrome 64 ক্যামেরায় ছবির আসল যে রং সেটি কখনোই ধরা পড়ত না। আগের ছবিগুলোতে এত সুন্দর সবুজ ঘাস বোঝাই যেত না।’ ছবি তোলা সেই জায়গায় বর্তমানে আঙুর চাষ করা হয়। সেখানে গাড়ি থামানোও এখন নিরাপদ নয়।
ব্লিস যেভাবে মাইক্রোসফটের হলো
সর্বপ্রথম তোলা এবং কোনো রকম এডিট না করা ব্লিস ছবিটি চার্লস করবিসে সাবমিট করেন। করবিস হচ্ছে ছবি জমা রাখার এবং লাইসেন্স করার প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৯ সালে বিল গেটস এটি চালু করেন। চার্লস যখন করবিসে ব্লিস জমা দিয়েছিলেন, তখন মাত্র ৫০টি ছবি ছিল ফাইলে। বর্তমানে তাদের ডেটাবেইসে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি ছবি আছে। মাইক্রোসফট ব্লিসকে ঠিক কত দামে কিনেছিল, সেটি কখনো জানা যায়নি। এমনকি চার্লস নিজেও কখনো সেই চুক্তির কথা কাউকে জানাননি। তবে জানা যায়, নির্দিষ্ট একটি ছবি কেনার জন্য সর্বোচ্চ দ্বিতীয় দাম দিয়ে এটি কেনা হয়েছে। তিনি এখনো জানেন না মাইক্রোসফট কীভাবে এই ছবি খুঁজে পেয়েছে। ‘ছবি তোলার কয়েক বছর পর যখন উইন্ডোজ এক্সপি চালু হয়, এক দিন আমার কাছে মাইক্রোসফটের একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে একটি ই-মেইল আসে। তারা জানতে চেয়েছিল ছবিটি কীভাবে বানানো হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট ধারণা করেছিল ছবিটি ফটোশপ করা। অনেকেই আবার ভাবছিলেন মাইক্রোসফটের হেডকোয়ার্টার ওয়াশিংটনের কাছাকাছি কোনো জায়গাতেই ছবিটি তোলা। তাদের আমি বলেছিলাম, তাদের সবার ধারণাই ভুল। জানিয়েছিলাম, ছবিটি একদম বাস্তব। আমি যেখানে থাকি সেই এলাকার কাছ থেকেই এটি তোলা। আমি যা তুলেছি আপনারা তাই দেখতে পাচ্ছেন। এটিতে কোনো ধরনের হাত দেওয়া হয়নি।’ মাইক্রোসফট ছবিটি নেওয়ার পর ডেস্কটপের কনফিগারেশনের জন্য পাশ থেকে কিছু অংশ কেটে দেয়। চার্লস যদি জানতেন ছবিটি এত জনপ্রিয় হবে, তবে হয়তো অন্যভাবে চুক্তি করতেন। ‘আমি যদি জানতাম ছবিটি এত কম্পিউটারে ব্যবহার করা হবে আর এত জনপ্রিয় হবে, তাহলে হয়তো আরও ভালো চুক্তি করতাম। বলতাম, যতবার এটি দেখা হবে ততবার এক সেন্টের একটি অংশ হলেও আমাকে দিতে। সম্ভবত সেটাই সবচেয়ে ভালো চুক্তি হতো। তখন আসলে রয়্যালটির মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আমরা তোমার থেকে ছবি নিচ্ছি, তোমাকে মূল্য দিচ্ছি, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, এবার তুমি আসতে পারো, এরপর সেটিকে স্ক্রিনে দেখানো হলো, তখন থেকে চলা শুরু হলো বিষয়টি এমন ছিল। ’
মূল ছবিতে সেভাবে হাত না দিলেও পাহাড়ের গায়ের রং কিছুটা বদলেছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজের অপারেটিং সিস্টেমে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে হয়তো আরও পরিবর্তন আসবে। তবে কি ব্লিস হারিয়ে যাবে? এর জবাবে চার্লসের মন্তব্য হচ্ছে, ‘আমার মনে হয়, ব্লিস আজীবন রয়ে যাবে। যখন আপনার বয়স ৯০ বছরও হয়ে যাবে, কোনো জায়গায় যদি ব্লিস চোখের সামনে এসে পড়ে, আপনি তখনো বলতে পারবেন ছবিটির কথা আপনার মনে আছে। আমাদের টেবিলে কম্পিউটার থাকলে, ব্লিসও ডেস্কটপে ভেসে ওঠে। পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় আপনি দাঁড়িয়ে যান, রাস্তা থেকে অপরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করেও যদি ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, তিনিও হয়তো বলবেন ছবিটি তার পরিচিত। কোথাও না কোথাও এটি তিনি দেখেছেন।’
কত মানুষ ব্লিসকে দেখেছে সে সংখ্যা যদি গুনতে হয়, বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন চার্লস। বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ এক্সপি ছড়িয়ে আছে মানে তার তোলা ছবি দূর-দূরান্তের অনেক ঘরেই আছে। ছবি নিয়ে একটি অভিজ্ঞতার কথা বেশ মনে পড়ে চার্লসের। নর্থ কোরিয়ায় একজন আমেরিকান ফটোগ্রাফার গিয়েছিলেন ছবি তুলতে। সেখানে পাওয়ার প্লান্টের সামনে বিশাল একটি বিলবোর্ডের সামনে দুজন মানুষ বসে ছিলেন। সেই বোর্ডটিতে ছিল ব্লিসের ছবি। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে আরও গল্প। ‘হোয়াইট হাউজে সম্ভবত সিচুয়েশন রুম নামে একটি রুম আছে। সেখানে ১০-১৫টির মতো মনিটর আছে। বলুন তো সেই মনিটরগুলোতে কীসের ছবি? সেখানেও রয়েছে ব্লিস। আমি নিশ্চিত, সেই রুমে কোনো ফটোগ্রাফারকে ঢুকতে দেওয়ার আগে তারা অবশ্যই সব স্ক্রিন পরিষ্কার করে ফেলে যেন বাইরের দুনিয়ায় কোনো মাধ্যমেই ভেতরের খবর প্রকাশ না পায়।’
ব্লিসের পরিচিতি এত বেশি যে, চার্লস নিজেই বিষয়টি নিয়ে সব সময় উচ্ছ্বসিত থাকেন। কিন্তু তার মতো বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ সবার থাকবে এমন নয়। ‘কয়েক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলেতে আমরা কয়েকজন একটি ফেরিতে করে যাচ্ছিলাম। সেখানে কয়েকটি মনিটর ছিল। ফেরি কোম্পানিতে যে মহিলাটি চাকরি করতেন তাকে আমি বললাম, এটা আমার তোলা ছবি! তিনি শুধু বললেন, তো কি হয়েছে?’
ক্যামেরা
একটি ছবি তোলার পেছনে ক্যামেরার অবদান অনেক বেশি। ফটোগ্রাফির ক্যারিয়ারে চার্লস সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন Myriad। এরপরের সময়ে তার সঙ্গী Panasonic Lumix LX3। এটিকে অবশ্য তিনি শুধু ক্যামেরা বলেন না, তিনি জানেন এই ক্যামেরা দিয়েই তার রোজগার হয়। তাই এটি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। বর্তমানে তিনি ডিজিটাল ফটোগ্রাফি নিয়ে বেশি কাজ করছেন। তিনি মানেন, বর্তমান সময়ের আধুনিক ক্যামেরা দিয়ে যদি তিনি ব্লিসকে তুলতেন, তবে হয়তো আরও ভালো কাজ হতো। ‘আমার কাছে সব সময়ই মনে হতো ক্যামেরার লেন্স মানেই চ্যালেঞ্জ। এগুলোই মূলত একটি ক্যামেরার সবচেয়ে দুর্বল অংশ। লেন্স ভালো হলে কাজও ভালো হয়।’
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বেশ কটি ছবি নিয়ে কাজ করেছেন চার্লস। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসেও ছিলেন স্টাফ ফটোগ্রাফার। wineviwes.com চার্লসের নিজস্ব ওয়েবসাইট। পাহাড়ি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছবি তুলে নিজের ওয়েবসাইট সাজিয়েছেন চার্লস। তৈরি করেছেন বই, বানিয়েছেন প্রফেশনাল অ্যাসাইনমেন্ট। স্ত্রী ড্যানের মতে, চার্লস হচ্ছেন তাদের পরিবারের সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি ডিজিটাল ফটোগ্রাফিতে ঝুঁকেছেন। তিনি এখন নিজেকে আর পেছনের দিকে নিতে চান না।
ছবি নিয়ে চার্লসের ভাবনা
ছবি নিয়ে অ্যাসাইনমেন্টে গেলে চার্লস সব সময় খেয়াল করতেন ফটোগ্রাফাররা প্রায়ই বলতেন, তারা কোথায় ছবিটি তুলেছেন তা মনে করতে পারছেন না। অথচ একটি ছবির আশপাশের প্রতিটি দৃশ্যই গণনায় রাখা জরুরি। সব তথ্য মনে রেখে ফটোগ্রাফার শেষ পর্যন্ত ছবিটি কীভাবে এডিট বা ক্রপ করবেন, সেটি তার ইচ্ছা। ‘ডিজিটালের শুরুর দিকে, হিস্টোগ্রাম অনেক কঠিন ছিল। আপনি চাইলেও প্রিন্ট কাগজে ছবির কালো বিন্দু যথাযথভাবে রাখতে পারবেন না। তাই আপনাকে সঠিকভাবে জানতে হবে আসল জায়গায় কালো অংশটুকু কোথায় আর কতটুকু অংশ জুড়ে ছিল। প্রিন্টের সময় যেন আপনি ভালোভাবে প্রেসকে বোঝাতে পারেন, কালো জায়গাটুকু কালোই রাখতে হবে, অন্য রং দেওয়া বা খালি রাখা যাবে না। বিশুদ্ধ ছবি এক ধরনের ইতিহাসের মতো। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, টাইম এরা কেউই কিন্তু ম্যাগাজিন বিক্রি হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ ছবি ব্যবহার করে না। এগুলো সব ইলাস্ট্রেশন। তাদের সব ছবিতেই কারসাজি করা আছে। তারা জানে তাদের পাঠক কী চায়, কেমন চায়। যেখানে ট্যাবলেট, ফোন, কম্পিউটার খুললেই আসল ছবির রঙের সঙ্গে ভিজ্যুয়ালও পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে কেন কষ্ট করে বইয়ের পাতা ওল্টানো? আর এজন্যই প্রিন্টে এসে বদলে যাচ্ছে ছবি। অনেকে হয়তো শুধু স্মৃতি থেকে ব্লিসের ছবি কম্পিউটারে রেখে দিয়েছেন বা দেবেন।’
চার্লস আশা করেছিলেন ব্লিসকে যেভাবে মাইক্রোসফট ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহার করছে, তেমনই হয়তো আরও ছবি তারা তার কাছে চাইবে। কিন্তু সেই আশা সত্যি হয়নি। ‘আমি তাদের আমার ফোন নম্বর লিখেও পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার কাছে আর কোনো ছবিই চায়নি!’
