পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে মিলবে বন্ড অনুমোদন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০৫ এএম

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে প্রায় ১০ মাস আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অধিকাংশ ব্যাংক এমন তহবিল গঠনে উদ্যোগ নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনে বাধ্য করতে পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ব্যাংকের বন্ড অনুমোদন পেতে হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের শর্ত আরোপ করছে এসইসি। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন তহবিল আনার চেষ্টা চালাচ্ছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এর আগে বীমা কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও আইপিওর (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের অন্তত ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তারোপ করে কমিশন। আর সব আবেদনকারীকে আইপিও শেয়ারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সেকেন্ডারি মার্কেটে ন্যূনতম বিনিয়োগ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ নিয়ে কাজ করছে এসইসি। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে পুঁজিবাজারে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল আসতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন সামাল দিতে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের সুযোগ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, তহবিল গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর গত ১০ মাসে ২১টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। আর ওই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

বিশেষ সুবিধায় ৬০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনের সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২১টি ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছে। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, ওয়ান, ইউসিবি, এনসিসিবিএল ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংক ৮০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। সিটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এর বাইরে রূপালী, ইসলামী, পূবালীসহ আরও ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৫২০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকই নিজস্ব উৎস থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তহবিল গঠন করেছে।

ব্যাংকগুলোর ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ব্যাংক তা না করায় হতাশ হয়ে পড়ে কমিশন। বাংলাদেশ ব্যাংক পরামর্শ দিলেও তা উপেক্ষা করে ব্যাংকগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে কমিশন। ব্যাংকগুলোর ব্যাসেল সংক্রান্ত শর্ত পরিপালনের জন্য ব্যাংকগুলোকে বন্ড ইস্যু করতে হয়। এক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এখন এই বন্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ গত ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের জারি করা বিশেষ তহবিল সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালনের শর্ত জুড়ে দিচ্ছে এসইসি। বিশেষ তহবিল গঠন না করলে ব্যাংকগুলো বন্ডের চাঁদা সংগ্রহ করতে পারবে না। সম্প্রতি ৫-৬টি ব্যাংকের পার্পিচ্যুয়াল বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে এমন শর্তারোপ করা হয়েছে।    

তফসিলি ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকেও এমন তহবিল গঠন করতে পারে। ওই বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠন করা বিশেষ তহবিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংক, যা পুঁজিবাজারে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বর্ণিত বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইপিও আবেদনকারীদের সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম বিনিয়োগ ১০ হাজার টাকা রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, তাহলে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসবে। আর নতুন করে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে যদি ন্যূনতম বিনিয়োগ ২০ হাজার টাকা করা হয়। অবশ্য আইপিও শেয়ার পেতে সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম কত বিনিয়োগ থাকতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত