অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ৩ মাস ১৫ দিন পর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। কোনো ধরনের মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই পেঁয়াজ রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। তবে ১ জানুয়ারি শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২ জানুয়ারি থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত সোমবার রাতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক অমিত ইয়াদব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়। রাতেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বরাত দিয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশি আমদানিকারকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন ও পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ৩ মাস ১৫ দিন পর আবারও ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। গত সোমবার রাতে একটি পত্রের কপি দিয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। তবে পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। ১ জানুয়ারি থেকে এই পেঁয়াজ রপ্তানি করা হবে বলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পাওয়ায় আমরা ইতিমধ্যেই পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলার প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশের বাজারে চাহিদার ওপর বিবেচনা করে পেঁয়াজের আইপি খোলাসহ এ সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ব্যাংকগুলো থেকে এলসি খুলতে শুরু করব। তবে যেহেতু পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি, তাতে করে আমদানিকারকরা যে দামে পেয়াঁজ কিনবে সেই দামেই আমদানি করতে পারবে। তবে প্রতিটন পেঁয়াজ ২শ থেকে আড়াইশ মার্কিন ডলার মূল্যে এলসি খোলা হবে বলেও তিনি জানান। এদিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামের যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে পেঁয়াজের দাম আগের মতো অবস্থায় চলে আসবে।
অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। আরও আটকা পড়ে আমদানির জন্য খোলা ১০ হাজার টনের মতো এলসি করা পেঁয়াজ। এর পাঁচ দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর অনুমতি সাপেক্ষে পূর্বের টেন্ডারকৃত ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেযার অধিকাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় পুঁজি হারিয়ে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বন্দরের আমদানিকারকরা। যদিও এরপর থেকেই পেঁয়াজ আমদানির জন্য খোলা এলসিগুলোর বিপরীতে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে ব্যবসায়ীরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন।
