২০২০ সাল নাড়িয়ে দেওয়া কয়েকটি ঘটনা

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১০ এএম

নানা কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২০২০ সাল। মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনীতিতে ধস, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সব মিলিয়ে এ বছরে আলোচিত অনেক ঘটনা ঘটেছে। বছর জুড়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

অস্ট্রেলিয়ার বনে আগুন

২০২০-কে বিষের মতোই ভাবছেন অনেকে। বছরের শুরুটাই হয়েছিল মন খারাপের ঘটনা দিয়ে। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনই অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের শুরু হয়। টানা মার্চ মাস পর্যন্ত চলেছে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ওই দাবানল। তাতে সরাসরি আগুনে ৩৩ জন ও দাবানলের অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরও ৪৪৫ জনসহ ৪৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। দাবানলে ১ কোটি ৩০ লাখ একর বন পুড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ কোটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে এই দাবানলে। মারা গিয়েছে অসংখ্য মাছ। এ ছাড়া মার্চ মাসে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে এবং রাজধানী ক্যানবেরার দাবানলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। নভেম্বর মাসে কুইন্স অঙ্গরাজ্যের দাবানলে ৭৪ কিলোমিটার পুড়ে যায়। এটি ১২২ কিলোমিটার একটি বনের অর্ধেকেরও বেশি। বছর জুড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য আগুনে পুড়েছে। দেশটিতে এ বছর শুষ্ক আবহাওয়ার মাত্রা ছিল অনেক বেশি। এসব দাবানলে প্রায় ৩০০ কোটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জীববৈচিত্র্যে অনেক বড় আঘাত এটি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপড়েন

৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বিমান হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এলিট ফোর্স ‘কুদস ফোর্সের’ শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সুলেইমানি নিহত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই জেনারেলের ওপর এ হামলা করা হয়েছে এমন তথ্য জানা গেলে ইরানে ক্ষোভ শুরু হয়। ইরানের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় গোপন অভিযান পরিচালনা করার কাজ করে ‘কুদস ফোর্স’। এই ফোর্সেরই নেতা ছিলেন জেনারেল। এমনকি ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক প্রভাব তৈরি করতে চেয়েছে, তারও মূল কারিগর ছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের ধারণা ছিল, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও কুদস ফোর্সকে যদি থামানো না যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে সামরিক এবং অন্যান্যভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, সেটিকে থামানো যাবে না। জেনারেলের ওপর হামলার পর ইরানও ইরাকে অবস্থিত আমেরিকান সেনাক্যাম্পে হামলা করে। এতে অবশ্য কেউ নিহত হননি। স্বাভাবিকভাবেই দুদেশের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি যেন বেশি খারাপের দিকে না যায়, সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ অনুমতি ছাড়াই ইরানের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ধরনের হামলা করতে পারবেন না এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিল পাস করে। মধ্য জানুয়ারিতেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড স্বীকার করে ইউক্রেনের প্যাসেঞ্জার জেটে হামলা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত ছিল। এ হামলায় নিহত হয়েছিলেন ১৭৬ জন মানুষ।

করোনাভাইরাস

চীনে করোনাভাইরাসের খবর পাওয়া যায় ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকেই। তত দিনে দেশটিতে সুরক্ষাব্যবস্থা এবং চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এত কিছুর পরও মৃত্যুসংখ্যা বাড়ছিল দ্রুতহারে। ফেব্রুয়ারি মাসের আগ পর্যন্ত চীন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে সেভাবে ভাইরাসের নাম পাওয়া যায়নি। চীনে সংক্রমণের পরই বেশ কটি দেশ সচেতন হয়ে সুরক্ষাবিধি তৈরি করে নিজ দেশের জন্য। এর পরও মার্চ মাস থেকে ধীরে ধীরে চীনের বর্ডার দিয়ে পার হওয়া শুরু করে করোনাভাইরাস। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩১ জনের কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে এলে ধীরে ধীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে আরও ১১৬০ জনের মধ্যে। আর এ সংখ্যাই সতর্কতা হয়ে সামনে আসে পৃথিবীবাসীর জন্য। এর পরের ঘটনা সবার জানা। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইতালির মতো আধুনিক দেশে ভাইরাস দ্রুতহারে ছড়াতে শুরু করে, মৃত্যু হয় অসংখ্য মানুষের। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসে।

লকডাউনে জীবন

সাময়িকভাবে বাড়িতে থাকার জন্য কারফিউ, কোয়ারেন্টাইনসহ বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয় আগে থেকেই। তবে এ বছর দীর্ঘদিনের জন্য বাড়িতে থাকার মতো যে লকডাউন পৃথিবী দেখেছে, এমনটির নজির এবারই প্রথম বলা যায়। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময় নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৯০টিরও বেশি দেশ, বিভিন্ন রাজ্য ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ নিয়ে লকডাউনে চলে যায়। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সুরক্ষাবিধি মেনে বাড়িতে থাকতে হয় জনগণকে। বিভিন্ন দেশ নিজ দেশে ভাইরাস কতটুকু ছড়িয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে লকডাউন দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি এই লকডাউনে প্রভাব পড়েছে। ভাইরাসের প্রভাব শুরু হলে চীনের সব ধরনের ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেখান থেকে এসেছেন এমন যেকোনো ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কভিড-১৯-কে মহামারী ঘোষণা করলে সতর্কতা নেওয়া শুরু হয় আরও জোরালোভাবে। মার্চের শেষ নাগাদ বিশ্বের বড় বড় এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে অনেক দেশেই ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তেলের বাজারে ধস

১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ২৭ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক দিনের কেনাবেচায় সর্বোচ্চ কমে যায় (৩৩ শতাংশ)। করোনা মহামারীর প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব তেলের বাজারেও। এতে ধস নামে বিশ্বের পুঁজিবাজারে। করোনাভাইরাসের কারণে তেলের বাজার বিপর্যস্ত হওয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় সংকট শুরু হয়েছিল। তারপর একের পর এক দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক কার্যকলাপ কমায় তেলের চাহিদাও কমতে থাকে। ধীরে ধীরে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে।

ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন

‘আই কান্ট ব্রিদ’ এই একটি লাইনই বেগবান করে কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলনকে। ২৫ মে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয় আমেরিকা। প্রায় তিন মাস পর্যন্ত চলে এই আন্দোলন। সেই পুলিশকে গ্রেপ্তার করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চলে আন্দোলন। গাড়ি পোড়ানো এবং পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন দেশে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার নিয়ে হাজারখানেক শোভাযাত্রা করা হয়। আন্দোলন শেষে ৯৩ শতাংশ আন্দোলনকারী জানিয়েছিল তাদের সন্তুষ্টির কথা।

করোনার টিকা

বছরের শুরুতে অচেনা ভাইরাসের জীবাণু সারা বিশ্বে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল, তার দাপট চলেছে সারা বছর ধরে। সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খেয়েছে বিশ্ব। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, একমাত্র একটি কার্যকর টিকাই পারে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে। তবে টিকা তৈরি করতে যে অনেক সময়ও লেগে যেতে পারে, তা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছিল। বহু অপেক্ষার পর ৯ নভেম্বর আমেরিকান কোম্পানি ফাইজার ও জার্মানির বায়োনটেক যৌথভাবে টিকা উদ্ভাবন করে। তারা জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে জানা গেছে, করোনার আক্রমণ থেকে লোকজনকে রক্ষা করতে তাদের টিকা ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। ডিসেম্বরের গোড়ায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই টিকার অনুমোদন দেয় ব্রিটেন এবং শুরু হয় তাদের টিকাদান কার্যক্রম। টিকা তৈরির যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক দশকের বেশি সময় লেগে যায়, সেখানে মাত্র ১০ মাসে এই টিকা আবিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নজিরবিহীন অর্জন।

ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৩ আগস্ট ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ঘোষণা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন। পুরো আলোচনাটি এতটা গোপনীয়ভাবে হয়েছিল যে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, দুদেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের বিনিময়ে ইসরায়েল পশ্চিমতীরের বিশাল ফিলিস্তিনি এলাকা ইসরায়েলের অংশ করে নেওয়ার কাজ আপাতত স্থগিত রাখবে। এ ঘটনার এক মাস পরেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ঘোষণা দেয় বাহরাইনও। ইসরায়েলের জন্য এ দুটি আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মেলানো ছিল সত্যিকার অর্থেই এক বিরাট অর্জন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন

মহামারীতে বিভিন্ন আয়োজন থেমে থাকলেও বিশ্ববাসীর নজর ছিল আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ঘিরে ছিল নজিরবিহীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন, তিক্ততা। ফলাফল ঘোষণার পর্বও ছিল বেশ নাটকীয়। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন যখন দাবি করেন তিনি জয়ের পথে রয়েছেন, তখন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট জালিয়াতি এবং ব্যালট চুরির অভিযোগ এনে দাবি করেন নির্বাচনে তিনিই জয়ী হয়েছেন। প্রচারণার সময়ই ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন, নির্বাচনী ফলের ব্যবধান যদি খুব কম হয়, তিনি তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ আনবেন। কয়েক লাখ বৈধ ব্যালট গণনা বাকি থাকতেই তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে জো বাইডেনের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত হয় ১৫ নভেম্বর। বাইডেন পান ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট আর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পান ২৩২টি। নির্বাচনের পর থেকেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে ফল নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন, আইনি পদক্ষেপসহ নানাভাবে ফল পাল্টানোর চেষ্টা করেন মামলা করার মাধ্যমে। তবে ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের পর এখনো চুপ করে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি, বরং নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু তার মামলাগুলো একের পর এক বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। ভোটের ফল এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হবে এবং কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আগামী ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক গণনা হবে। এটাই আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ নেয়ওার পথ তৈরি করবে। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন একজন নারী। শুধু নারী হিসেবেই নয়, কমলা হ্যারিস কৃষ্ণাঙ্গ এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েও ইতিহাস তৈরি করেছেন। এ ছাড়া জো বাইডেন তার প্রেস টিমে সব পদে নারীদের যুক্ত করায় এ ঘটনাও জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

বৈরুত বিস্ফোরণ

বিশ্ব যখন বেশ কটি জৈবিক আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই মনুষ্য ত্রুটির কারণে বৈরুতের বন্দরে ঘটে বিকট বিস্ফোরণ। সম্ভবত এবারই প্রথম মোবাইলে মানুষের ধারণ করা ভিডিও সরাসরি ব্রডকাস্ট করা হয় টেলিভিশনে। স্যাটেলাইট ডেটা, নাসা ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের ম্যাপ থেকে বিস্ফোরণের ক্ষতি সম্পর্কে জানা যায়। এ ঘটনায় নিহত হন ১৩৫ জন মানুষ, আহত হন তিন লাখেরও বেশি। বিধ্বংসী বিস্ফোরণের ঠিক আগে বৈরুত বন্দরে একটা বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায় বন্দরে যে বিশাল শস্যের গুদাম, আছে তার পাশে ১২ নম্বর গুদামঘর থেকে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার অল্প পরেই গুদামঘরের ছাদে আগুন ধরে যায় এবং প্রথমদিকে একটা বড় বিস্ফোরণ এবং এর পরপরই ছোট ছোট কটি বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড পরেই, একটি বিশাল ও ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে বিশাল একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে শহরের সর্বত্র বিস্ফোরণের ভয়ানক কান ফাটানো তীব্র শব্দ শোনা যায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে বন্দরের কাছের বাড়িগুলো মাটিতে মিশে যায় এবং রাজধানীর বাদবাকি অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই বিস্ফোরণে প্রায় ১৫ বিলিয়ন অর্থের ক্ষতি হয়। আধুনিক সময়ে এই বিস্ফোরণকে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা বলা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত