নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হলো ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস। ভ্যাজাইনোসিস বলতে যোনিপথের প্রদাহকে বোঝায়। ভ্যাজাইনাল মাইকোফ্লোরা নামের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার ভ্যাজাইনোসিস কী? ভ্যাজাইনাল মাইকোফ্লোরা নামের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মিশ্রণ যখন যোনিপথের উপকারী বা প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন যোনিপথে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটিই ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস।
লক্ষণ ও উপসর্গ
প্রস্রাবের সময় জ্বালা অনুভব।
যোনি থেকে আঁশটে গন্ধ অনুভব করা।
সাদাটে বা ধূসর স্রাব নির্গত হওয়া। যদিও ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস হওয়া বেশির ভাগ নারীই কোনো উপসর্গ টের পান না। অনেকের ক্ষেত্রে অনিয়মিতভাবে দেখা যায়।
কারণ
গার্ডেনেরাল্লা নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্ষেপ ‘বিভি’ বা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস হয়ে থাকে। আবার ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের ব্যাকটেরিয়া যোনিতে অবস্থান করে, যা যোনির স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে। কোনোভাবে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে গেলে ‘বিভি’ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ধূমপান, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক কিংবা একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস হতে পারে।
করণীয়
সচেতনতাই এই রোগের প্রথম করণীয়। সংকোচ না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে জটিরতা এড়ানো সম্ভব। এই রোগের চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ভর করে এর উপসর্গগুলোর ওপর ভিত্তি করে। যোনির অস্বস্তি, চুলকানি সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। সংক্রমণের পুনরাবৃত্তিতে ওষুধের ডোজ বাড়াতে হয় বা দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। বারবার সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
যেমন
নিয়মিত এসটিডি পরীক্ষা করানো।
অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা।
পরিষ্কার পানির মাধ্যমে যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা।
স্বাস্থ্যসম্মত অন্তর্বাস ব্যবহার করা।
