ইউএনওদের হস্তক্ষেপ বন্ধ চান চেয়ারম্যানরা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ০২:০১ এএম

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে দিন দিন উপজেলা পরিষদের কর্মকাণ্ড চলে যাচ্ছে নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) হাতে। এতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন চেয়ারম্যানরা। আবেদন করেও সমাধান মিলছে না। ইউএনওদের হস্তক্ষেপ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং এসব দাবি আদায়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যানরা।

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ ঘোষণা দেন। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউএনওদের এমন বৈরিতা স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন-অর রশীদ হাওলাদার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা (ইউএনও) সবকিছু উপেক্ষা করে উপজেলায় শাসকের ভূমিকা পালন করছেন। উপজেলা পরিষদ আইন-২০১১ (সংশোধিত) অনুযায়ী সব উপজেলাকে প্রশাসনিক একাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। আইনের তৃতীয় তফসিলে ১২টি মন্ত্রণালয়ের উপজেলাভিত্তিক ১৭টি বিভাগকে উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তাস্তর করা এসব কাজ সম্পাদনে উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদন নেওয়ার কথা। ২০১০ সালের ১৭ জুন, ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত আদেশও জারি করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পাশ কাটিয়ে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তারা উপজেলা পরিষদের পরিবর্তে উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করছেন। চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়াই সব কাজ পরিচালনা করছেন। অথচ উপজেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাদের সচিবের দায়িত্ব পালন করার কথা।’

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, উপজেলা পরিষদ আইনের পুরোপুরি বাস্তবায়ন, উপজেলা পরিষদ কার্যক্রম বাস্তবায়নে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ ১৫ সচিবের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা সদর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মতবিনিময়, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি রেখে কঠোর আন্দোলনের কথা জানান তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি শুধু উপজেলা পর্যায়ে নয়, পুরো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই রয়েছে। মূলত এ-সংশ্লিষ্ট আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এর মাঝে আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের খবরদারিও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে জনপ্রতিনিধিদের অধীনে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করবেন। তারা তাদের কাছে জবাবদিহি করবেন। কিন্তু এ বিষয়ে আইনে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এর ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করে সরকারি কর্মকর্তারা আধিপত্য বিস্তার করছেন। এটা খুব দুশ্চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে সরকার একটি কমিশন গঠন করে কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম খান বিরুসহ বিভিন্ন উপজেলার ৬০ জন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত