‘গানবাজনা করলে জানাজা-বিয়ে পড়াবে না কোনো আলেম’

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৫৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা করলে ঐ পরিবারের কারও বিয়ে, মারা গেলে জানাজাও পড়াবে না কোনো আলেম। স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত কমিটি।

গত শুক্রবার বাদ জুম্মা পঞ্চায়েত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এলাকাজুড়ে মাইকিং করাও হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (১ জানুয়ারি) জুমার নামাজের সময় বন্দর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির লোকজন এই সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাব্বির আহম্মেদ ইমন এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত বলে জানান। তার সমর্থনেই ওয়ার্ডজুড়ে এমন মাইকিং করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এদিকে গান-বাজনা করলে বিয়েতে এবং জানাজার নামাজে মসজিদের ইমামের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে দেখছেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রবিবার (৩ জানুয়ারি) বন্দর ইউপি সদস্য সাব্বির আহম্মেদ ইমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগে জান্নাত জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জুমার নামাজের খুতবার আগে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে গানবাজনার প্রসঙ্গটি তোলেন। পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাইকিংও করা হয় এলাকায়। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তার পরিবারের জানাজা ও বিয়েতে কোনো ইমাম বা আলেম যাবেন না। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও ঠিক।

এক প্রশ্নের জবাবে নিজেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী বলে পরিচয় দেওয়া এই ইউপি সদস্য বলেন, আসলে উচ্চস্বরে গানবাজনায় মানুষের ক্ষতি হয়। বার বার বললেও তা কেউ মানে না। এইজন্য এবার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঘরের ভেতর টিভিতে কিংবা মোবাইলে গান শুনলে তাতে সমস্যা নেই। লাউড স্পিকারে গান বাজানো যাবে না। আমি একা না, এতে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটিরও সমর্থন আছে।

এদিকে এমন সিদ্ধান্তে হতবাক বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমনটা কেউ করতে পারেন না। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নেবো। আগামীকাল পরিষদে গিয়ে আমার প্রথম কাজ হবে এই বিষয়ে তদন্ত করা। তারপর ওই ইউপি সদস্যকে ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চস্বরে কেউ গান বাজিয়ে অন্যকে বিরক্ত করলে সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই জানাজা ও বিয়ে না পড়ানোর বিষয়টা বাড়াবাড়ি।

এ বিষযয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার বলেন, এমনটা তারা করতে পারেন না। এই বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। বিশেষ করে ইউপি মেম্বারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরউদ্দিন ভুইয়া বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত