ঋণ অনুমোদনে নিরীক্ষা প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৩২ এএম

জনস্বার্থ সংস্থার আওতায় পড়ে এমন প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন বা নবায়নের সময় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষিত এবং স্টেকহোল্ডারদের জন্য প্রণীত হালনাগাদ বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমায় বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের প্রতিবেদন জমা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এ ছাড়া জমা নেওয়া প্রতিবেদন অবশ্যই ঋণের নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।

সার্কুলারে জনস্বার্থ সংস্থার অনুকূলে ঋণ অনুমোদন বা নবায়নের  ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও জমা নেওয়া এবং ঋণের নথিতে সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ঋণ অনুমোদন বা নবায়নের ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলে তাও যথাযথভাবে ঋণের নথিতে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ২০১৫-এ সংজ্ঞায়িত জনস্বার্থ সংস্থার ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থ সংস্থা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বা নবায়নের সময় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষিত এবং স্টেকহোল্ডারদের জন্য প্রণীত হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী জমা প্রদান না করে ম্যানেজমেন্ট অডিট রিপোর্ট, রিভিউ রিপোর্ট ইত্যাদি ভিন্ন নামে আর্থিক বিবরণী জমা করে থাকে। তাই এখন থেকে ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ও আর্থিক খাতে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষিত এবং স্টেকহোল্ডারদের জন্য প্রণীত হালনাগাদ বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমায় বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের মার্চে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) জনস্বার্থ সংস্থার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়। এতে বলা হয়, ৫ কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব, ৩ কোটি টাকার নিট সম্পদ এবং শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি ছাড়া ১ কোটি টাকার দায় থাকলে সেটা জনস্বার্থ সংস্থা বলে বিবেচিত হবে।

গত ২১ ডিসেম্বর থেকে জনস্বার্থ সংস্থাগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করে এফআরসি। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে এফআরসি জানায়, নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুনরীক্ষণে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন নিরীক্ষা ফার্ম নিরীক্ষা প্রতিবেদন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করছে। এতে অভিন্ন নিরীক্ষা চর্চা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরীক্ষা কাজে যতœশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নিরীক্ষকের নিজ নামে স্বাক্ষর করার দরকার আছে।এ ছাড়া নিরীক্ষা প্রতিবেদন ব্যবহারকারীদের কাজে বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্যও প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের নিজ নামে স্বাক্ষর করার দরকার রয়েছে বলেও মনে করে এফআরসি। এতদিন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বাক্ষরের তিনটি বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। বিকল্পগুলো হলো নিজ নামে স্বাক্ষর করা, ফার্মের নামে স্বাক্ষর করা বা উভয় নামে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত