আমদানি নিয়ে বিভ্রান্তির দিনে টিকার অনুমোদন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ০২:২৫ এএম

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকার অনুমোদন দিয়েছে দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদনের জন্য করা আবেদনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ টিকা বাংলাদেশে আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিল অধিদপ্তর।

এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও মুখপাত্র আইয়ুব হোসেন গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পণ্যটা (অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা) যাতে বেক্সিমকো আমদানি করতে পারে, সেজন্য একটা অনাপত্তি সনদ দিয়েছি আমরা। বেক্সিমকো আমদানি করে সরকারকে দেবে, সেজন্য আমরা এনওসির মাধ্যমে অনুমোদন দিয়েছি। আমরা টিকা আমদানির অনুমোদন দিয়েছি। এনওসি দেওয়ার অর্থ আমদানির অনুমতি।

ভারত ও যুক্তরাজ্য যেভাবে এ টিকার অনুমোদন দিল, আমরাও তেমনি অনুমোদন দিলাম জানিয়ে এ মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্য ও ভারত এ টিকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে মানবদেহে ট্রায়াল (প্রয়োগ) হয়েছে। ভারতের লোকের সঙ্গে আমাদের মিল আছে। বিশেষজ্ঞরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেজন্য আমরা আমদানির অনুমোদন দিয়েছি। তারা টিকা এনে সরকারকে দেবে, সরকার এটা দেখবে। আমরা শুধু আমদানির অনাপত্তি দিয়েছি।

বাংলাদেশে অনুমোদনের পর এখন এ টিকা দেশে আনতে আর কোনো বাধা রইল না বেক্সিমকোর। টিকাটি বাংলাদেশে আনা ও ব্যবহারের জন্য এ অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। ইতিমধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার ব্যাপারে সরকার, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অনুমোদনের পর এক মাসের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশকে এ টিকা দেওয়ার কথা। সরকারকে এ টিকা এনে দেবে বেক্সিমকো। প্রতি টিকার দাম পড়েছে ৫ ডলার। টিকা পাওয়া নিয়ে দিনভর বিভ্রান্তি : এর আগে অবশ্য গতকাল দেশে এ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনাওয়ালার বরাত দিয়ে গতকাল রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই) বলেছে, তারা আগামী দুই মাসে ভারতে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করবে। তারপরই রপ্তানির উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, ভারতের সরকারকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের পরই রপ্তানি করা সম্ভব হতে পারে।

পরে রাতে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মায়াঙ্ক সেন। কারণ হিসেবে এ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট এখন অন্য দেশে টিকা রপ্তানির অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যা পেতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই মুহূর্তে তারা রপ্তানি করতে পারবে না, যেহেতু তাদের রপ্তানির অনুমতি নেই।

এর ফলে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও সিরাম ইনস্টিটিউটের চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ দেখা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী টিকার বাংলাদেশে অনুমোদনের পর থেকে এক মাসের মধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে টিকা দেওয়া শুরু করবে। প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে তিন কোটি টিকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সিরাম ইনস্টিটিউট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশ সময়মতো টিকা পাবে কি না তা নিয়ে নানা ধরনের সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এ নিয়ে গতকাল দিনভর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কথা হয়েছে। সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কথা বলেছে বেক্সিমকো।

সরকার ও বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেরাম ইনস্টিটিউট কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তার বক্তব্য সাধারণ বক্তব্য এবং চুক্তিতে এ ধরনের কোনো শর্ত নেই। বাংলাদেশের সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে কোনো সংশয় নেই। দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর টিকার অনুমোদন দেওয়ায় এখন আর এ টিকা দেশে আসতে কোনো বাধা রইল না। গতকাল থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে টিকা দেওয়া শুরু করবে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাঠাবে সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারতের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত রবিবার ওই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিলে বাংলাদেশেও দ্রুত টিকা পাওয়ার আশা জোরালো হয়ে ওঠে। এর আগে যুক্তরাজ্য এ টিকার অনুমোদন দেয়। সর্বশেষ গতকাল অনুমোদন দিল বাংলাদেশ।

দিনভর ভারতের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা : সময়মতো টিকা পাওয়া নিয়ে গতকাল দিনভর দেশে নানা ধরনের আলোচনা ছিল। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। টিকা পেতে দেরি হতে পারে এমন সংবাদ নানাভাবে প্রচার হতে থাকলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রথমে সচিবালয়ে করোনাভাইরাস টিকা সংক্রান্ত জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা রপ্তানির বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করা চুক্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

স্বাস্থ্যসেবা সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি সাপেক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ দেশে টিকা চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

সিরাম ইনস্টিটিউট কর্মকর্তার বক্তব্যের ফলে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া পিছিয়ে যাবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয় নিয়ে সকাল (গতকাল) থেকে কাজ করছি। বেক্সিমকো, ফরেন মিনিস্ট্রি ও ভারতের মিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছে, আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তি ব্যাহত হবে না। কোনো সমস্যা হবে না, আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। টিকার জন্য চুক্তির অনুযায়ী খুব দ্রুত ১২ কোটি ডলার পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আজ মঙ্গলবারের মধ্যে সেই টাকা জমা হয়ে যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, আমি এখনই (গতকাল দুপুরে) ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারকে ফোন করেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, টিকা নিয়ে ‘আশঙ্কার কিছু নেই। সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইনডিয়া ভারত সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। এ অনুমোদন পাওয়ার পর তারা ডব্লিউএইচওর কাছে অনুমোদনের জন্য যাবে, সেখানে তিন সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। আমাদের সময় বলা ছিল ফেব্রুয়ারিতে পাব। এ তিন সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ডিলে হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। দুশ্চিন্তা হওয়ার মতো এখনো কিছু হয়নি। টাকা পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং পাঠানো হচ্ছে।

একইভাবে বাংলাদেশ যথাসময়ে টিকা পাবে বলে জানান পররাষ্ট্রমমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, টিকার ব্যাপারে দিল্লি ঢাকাকে আশ্বস্ত করেছে। বাংলাদেশ যথাসময়ে করোনাভাইরাসের টিকা পাবে বলে জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে করোনার টিকা দেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশে যথাসময়ে ভারত থেকে টিকা পাবে। ভারত যখন টিকা পাবে, বাংলাদেশকেও তখন করোনার টিকা সরবরাহ করবে সেরাম ইনস্টিটিউট।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আমাদের মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে সেটি পালন করা হবে। ওরা বলেছে, ভ্যাকসিনের বিষয়ে অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। কিন্তু যেহেতু একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায় অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলাপ করে এটা হয়েছে, কাজেই বাংলাদেশ প্রথম টিকা পাবে। কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা এখানে কার্যকর হবে না। তিনি আরও বলেন, ভারত বলেছে, বাংলাদেশের এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দ্বিতীয়ত তারা বলেছে, সেরাম কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যেটি বলেছেন সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। এটি ভারত সরকারের নীতি নয় এবং বেশি আগে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সময়মতো টিকা পাওয়ার আশ্বাস বেক্সিমকোর : গতকাল রাতে রাজধানীর নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমরা চিন্তিত নই। কারণ আমাদের চুক্তি হয়ে গেছে। চুক্তিতে পরিষ্কার বলা আছে, আমাদের দেশে অ্যাপ্রুভাল দেওয়ার এক মাসের মধ্যে তাদের (সিরাম) টিকা দিতে হবে। এটা একটা আন্তর্জাতিক চুক্তি।

তিনি বলেন, চুক্তি যেহেতু হয়ে গেছে, এটাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। এটা নিয়ে আজ (গতকাল) সেরামের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি যে করোনার টিকা আসতে দেরি হতে পারে। সরকার যদি নিয়মকানুন মেনে দিয়ে দেয়, এক মাসের মধ্যে টিকা আসবে। এর নিয়ন্ত্রণের দিকটা বাংলাদেশ সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

এর আগে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকা পাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। সেরাম ইনস্টিটিউট আগামী দুই মাস ভারতের চাহিদা পূরণ করার রপ্তানির উদ্যোগ নেবে বলে যে বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়। এটা ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ডিসিজিআই বলেনি। ডিসিজিআই সেরাম ইনস্টিটিউটকে যে উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে, সেখানেও কোথাও বলা নেই যে তারা রপ্তানি করতে পারবে না। এটা সিরামের প্রধান নির্বাহী বলেছেন। উনি হয়তো ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা অ্যাপ্রুভাল প্রসেস বা রেগুলেটরি এজেন্সি কোথাও থেকে বলা হয়নি।

এ বক্তব্যের কারণে টিকা পাওয়া নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, এটা ওই কর্মকর্তার এক ধরনের জেনারালাইজড স্টেটমেন্ট ছিল। কারণ ওদের কাছে অনেক চাহিদা জমা পড়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে চাওয়া হচ্ছে। এটা যদি আমাদের দেশে হতো, আমাদের দেশ থেকেও বলা হতো, নিজেদের চাহিদা পূরণ না করে বাহিরে দিয়ে দিও না। টিকার ব্যাপারে ভারতের উদ্বেগ আছে। কারণ ওখানেও বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক কভিড রোগী। সবাই তো চাইবে আগে নিজের দেশের চাহিদা মেটাতে।

এ কর্মকর্তা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সঠিক সময়েই আমরা টিকা পাব। আমাদের দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদনের দিন থেকে এক মাসের মধ্যেই প্রথম চালান চলে আসবে। আমাদের এখন পর্যন্ত সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যে কথা হয়েছে, তাতে তারা বলেছে চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাব। কোনো অসুবিধা হবে না।

অনুরূপভাবে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা নেই বলে গতকাল বিবিসিকে জানিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মায়াঙ্ক সেন। এ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার যে খবর একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা ‘পুরোপুরি’ সঠিক নয়। তাদের টিকা রপ্তানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কোম্পানিটি (সেরাম ইনস্টিটিউট) এখন অন্য দেশে টিকা রপ্তানির অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যা পেতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে রপ্তানি শুরুর আগেই ভারত সরকারকে ১০ কোটি টিকা দেওয়ার বিষয়ে (সেরাম ইনস্টিটিউট) সম্মত হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা রপ্তানি করতে পারবে না, যেহেতু তাদের রপ্তানির অনুমতি নেই।

রপ্তানির অনুমতি পেতে পাওয়ার আগে বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে টিকা পাবে কি না জানতে চাইলে বেক্সিমকোর কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা বলেন, ওরা (সিরাম ইনস্টিটিউট) যে পরিমাণ বানায় ও আমাদের যা দেওয়ার কথা, সেটা খুব বেশি না। তাছাড়া ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশের সম্পর্ক খুব ভালো। এটা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা হয়েছে। সবকিছু মিলে সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আমাদের যে রকম কথা হয়েছে, সে অনুযায়ী টিকা পাব। ইতিমধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউটের ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি টিকা বানানো শেষ। সেটা তারা ভারত সরকারকে দেবে। এ মাস থেকে তাদের উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। সুতরাং আমাদের পেতে কোনো অসুবিধা হবে না।

এমনকি ভারতের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ার সক্ষমতা সেরাম ইনস্টিটিউটের আছে বলে জানান রাব্বুর রেজা। তিনি বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদন সক্ষমতা আছে। কারণ ওরা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ওরা মিনিটে ৫ হাজার ডোজ উৎপাদন করতে পারে। গত সপ্তাহেই ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি টিকা তৈরি করেছে ওরা। এর মধ্যে হয়তো আরও করেছে। বছরে তারা কমপক্ষে ২ বিলিয়ন উৎপাদন করবে। তবে মূল কথা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী আমরা ভ্যাকসিন পাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত