নীতি ভেঙে ৩১ প্লট ভাগাভাগি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৫৮ এএম

খুলনা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (কেডিএ) বিরুদ্ধে নীতিমালা ভেঙে ময়ূরী প্রকল্পের ৩১টি প্লট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ ডিসেম্বর সংস্থার বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কেডিএতে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন, একটি শ্রেণিকে বিশেষ সুবিধা দিতে প্লট বরাদ্দের কোনো নীতিমালা মানেনি কেডিএ কর্র্তৃপক্ষ। এমনকি প্রকল্পের ৭০ ভাগ উন্নয়ন শেষে প্লটগুলো নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, লটারিও করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০১২ সালে খুলনা নগরীর পশ্চিম প্রান্তে সিটি বাইপাস সংলগ্ন আহসানাবাদ মৌজায় ৯০ একর জমিতে ‘ময়ূরী’ নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলে কেডিএ। এ আবাসন প্রকল্পে মোট ৬৫৩টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে ৩ কাঠার ৩৮৪ ও ৫ কাঠার প্লট ২৬৯টি। লটারির মাধ্যমে শতভাগ কোটার ভিত্তিতে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়ার কথা। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান (২০ শতাংশ), আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান (৮ শতাংশ), বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (৮ শতাংশ), প্রবাসী (৬ শতাংশ), মুক্তিযোদ্ধা (৫ শতাংশ), ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী (৭ শতাংশ), অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী (৫ শতাংশ), কেডিএর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় চাকরিরত/অবসরপ্রাপ্ত ও বোর্ড সদস্য (১০ শতাংশ), প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক (৬ শতাংশ) বিশেষ পেশা (শিল্পী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য ৩ শতাংশ), সংরক্ষিত ১৫ শতাংশ ও সংসদ সদস্যদের জন্য রয়েছে ২ শতাংশ প্লট।

প্রকল্পের শুরুতে ৩ কাঠা প্লটের বিপরীতে প্রতি কাঠা ৯ লাখ টাকা হারে এবং ৫ কাঠা প্লটের জন্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা কাঠা হারে দাম নির্ধারণ করা হয়। অনেকে ২৭ ও সাড়ে ৪৭ লাখ মূল্য পরিশোধ করে ইতিমধ্যে ৩ ও ৫ কাঠার প্লট গ্রহণ করেছেন। তবে নানা কারণে আবেদন বাতিল হওয়ায় ৫ কাঠার ১৬টি ও ৩ কাঠার ১৫টি প্লটের বরাদ্দ বাকি রয়েছে। এগুলোই বোর্ড সভায় মাত্র ৫ লাখ টাকা কাঠা হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বরাদ্দ দিয়েছে কেডিএ। অথচ ভূমি উন্নয়ন ও প্রকল্পের কাজ এখন প্রায় ৭০ ভাগ শেষে প্রতি কাঠা জমির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। নীতিমালায় আগে দাখিল করা আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট পাবেন বলা হলেও তা মানা হয়নি।

একাধিক প্লট গ্রহীতার অভিযোগ, সাধারণ ক্রেতা থেকে প্রকল্পের শুরুতেই যে দাম নেওয়া হয়েছে, এখন ৭০ শতাংশ উন্নয়ন প্রকল্পে তার অর্ধেক দামে কেডিএ নিজেদের লোকজনকে প্লট দিয়েছে। এটা বড় ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড সদস্য বলেন, ‘বর্তমানে ময়ূরী প্লকল্পে এক কাঠা জমির দাম প্রায় ২০ লাখ টাকা। এ হিসাবে ৩ কাঠার প্লট ৬০ এবং ৫ কাঠার প্লটের দাম হওয়া উচিত ১ কোটি টাকা। কিন্তু একটি শ্রেণি পানির দরে প্লট ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। এর ফলে ৩১টি প্লটের বিপরীতে কেডিএ প্রায় ৩ কোটি টাকা কম পাচ্ছে।’

বোর্ড সভায় উপস্থিত থাকা আকরাম হোসেন বলেন, ‘বোর্ড সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ছিলেন। কেডিএর কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুষ্টিমেয় সদস্যের পক্ষে এ বিষয়ে কিছু করার ছিল না।’

সুজন খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘কেডিএ বড় ধরনের অনিয়ম করেছে। প্লট বরাদ্দের নীতিমালা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, টেন্ডার ও চাকরির বয়স অনুসরণ করতে বলা হলেও কিছুই করেনি। এমনকি প্লট বরাদ্দে লটারিও ধার ধারেনি।’

এ বিষয়ে কেডিএর পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহানুর আলম বলেন, ‘বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এখানে কোনো একক ব্যক্তিকে দায়ী করার সুযোগ নেই।’ কেডিএর চেয়ারম্যান আবদুল মুকিম সরকারও একই কথা বলেন, ‘বোর্ড সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার কিছু বলার নেই।’

তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘বিদায়ের আগে কেডিএ চেয়ারম্যান এ ধরনের অবৈধ কাজ করছেন। এটা সম্পূর্ণ নীতিপরিপন্থী কাজ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত