নেশার টাকা জোগাড় করতে স্ত্রীর কাছে নাকফুল ও কানের দুল চেয়েছিল মাদকাসক্ত ফিরোজ মন্ডল (৩৫)। কিন্তু সেসব স্বর্ণালঙ্কার দিতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ হয় সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্্বিতন্ডাও হয়। এরই জেরে রাতে বালিশচাপায় শ্বাসরোধে স্ত্রী ও পাঁচ মাসের কন্যাশিশুকে হত্যা করে ফিরোজ। এরপর সেই কানের দুল ও নাকফুল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে। স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল ফিরোজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করেনি। অবশেষে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করতে চেয়েছিল। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজশাহীর আমলি আদালত-৩-এর বিচারক রাসেল মাহমুদের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ফিরোজ। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর ওই দিন রাতেই পুঠিয়ায় নিয়ে আসা হয় তাকে।
পুঠিয়া থানার ওসি (তদন্ত) খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ফিরোজের বাবা-মাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ওই দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরে ফিরোজসহ ওই তিনজনকেই রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঢাকার গাবতলীতে গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকা থেকে পুঠিয়ায় নিয়ে আসে পুঠিয়া থানা পুলিশের একটি দল। ওই দিন রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী ও তার শিশুকন্যাকে হত্যার কথা স্বীকারও করে। ফিরোজ জানায়, চরম আর্থিক সংকটে ঋণের বোঝায় মানসিক অশান্তিতে ছিল সে। কয়েক বছর আগে একটি ঢাকা কোচে সুপার ভাইজারের চাকরি করত। একটি দুর্ঘটনায় তার বাঁ পায়ের নিচের দিক কেটে ফেলতে হয়। এরপর আর্থিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এক সময় সে অটোরিকশা চালালেও এখন সেটিও নেই। টাকার জন্য সে মাঝেমধ্যেই স্ত্রীর কাছে হাত পাত তো। নেশার টাকা জোগাড় করা ছিল তার বড় চাপ। সোমবার সন্ধ্যায় সে তার স্ত্রীর নাকের ফুল ও কানের দুল চেয়েছিল। কিন্তু তার স্ত্রী সেটা দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন রাতেই স্ত্রী পলি বেগমকে বালিশচাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পাশেই ছিল পাঁচ মাসের শিশুসন্তান ফারিয়া ও আড়াই বছরের সন্তান ফাহিম আলী।
ফিরোজের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারিয়া চাপা পড়ে যায়। স্ত্রী-মেয়ের মৃত্যুর পর ফিরোজ পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের রাত ১২টায় ছেড়ে যাওয়া বাসটি পুঠিয়ায় পৌঁছে ১২টা ৪০ মিনিটে। পুঠিয়া বাজার থেকে সেই গাড়িতে উঠে ঢাকায় রওনা হয় সে। উদ্দেশ্য ছিল আত্মগোপন করা। কিন্তু ভোর ৫টা ২০ মিনিটে গাবতলী এলাকায় পৌঁছার পরপরই দারুসসালাম থানা পুলিশ ফিরোজকে আটক করে।
পুঠিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আরও জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত পলি বেগমের ভাই মো. কাজল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে ফিরোজ ছাড়াও তার বাবা হাসিব আলী ও মা চায়না বেগমকেও আসামি করা হয়।
রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ফিরোজ। তার দাবি, আর্থিক অনটন ও ঋণের বোঝায় মানসিক অশান্তির জেরে হত্যাকা-টি ঘটিয়েছে সে।
