এমএস রড উৎপাদনকারী কোম্পানি ক্রয়ের পর এবার সিরামিক টাইলস কোম্পানিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসএস স্টিল। নির্মাণশিল্পে পণ্য বহুমুখিতার অংশ হিসেবে সাউথইস্ট ইউনিয়ন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ৭৫ শতাংশ শেয়ার কেনার পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি, যাতে বিনিয়োগ হবে ২০০ কোটি টাকা।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এসএস স্টিল। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ২২ টাকা ৮০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। টঙ্গীতে অবস্থিত এসএস স্টিল বিভিন্ন গ্রেডের এমএস রড, বিলেট উৎপাদন করে। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশের সিরামিক পণ্যের বাজার ছিল প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ১১ বছরে এ শিল্পে পণ্য উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ স্থানীয়রা পূরণ করে আসছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এসএস স্টিল জানিয়েছে, বাগেরহাটের কাটাখালীতে চীন-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাউথইস্ট ইউনিয়ন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের রয়েছে স্টেট অব দ্য আর্ট টেকনোলজি। কোম্পানিটির বার্ষিক ৯ কোটি ৬০ লাখ বর্গফুট সিরামিক টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ৬৮টি সিরামিক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি টেবিলওয়্যার, ৩২টি টাইলস ও অন্যগুলো স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদন করছে। এর বাইরে নতুন আরও ১২টি সিরামিক কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এই খাতে, যেখানে প্রায় ৫ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে।
সাউথইস্ট ইউনিয়ন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে অতিরিক্ত সাধারণ সভার (ইজিএম) আয়োজন করবে এসএস স্টিল। ব্যাংক ঋণ ও কোম্পানির তহবিল থেকে ওই বিনিয়োগের অর্থের জোগান দেওয়া হবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এসএস স্টিলের পুঞ্জীভূত আয় ১১৮ কোটি টাকা ও শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসাবে ৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এর আগে গত বছর রড উৎপাদনকারী কোম্পানি সালেহ স্টিলের ৯৯ শতাংশ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয় এসএস স্টিল। সালেহ স্টিলে ১৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ইতিমধ্যেই তা অধিগ্রহণ করেছে এসএস স্টিল। সাউথইস্ট ইউনিয়ন সিরামিক হবে দ্বিতীয় কোম্পানি, যার অধিকাংশ শেয়ার কিনছে কোম্পানিটি। নতুন এই বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে এসএস স্টিলের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।
