না.গঞ্জে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নিহত ১

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৫৫ এএম

নারায়ণগঞ্জে একটি দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ‘সেইফটি ফার্স্ট ফায়ার প্রটেকশন’ নামে ওই দোকানটিতে আগুন নেভানোর বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করা হয়।

নিহত রফিকুল ইসলাম (৬০) দোকানটির কর্মচারী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে আড়াইহাজারে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের পাইপের লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ ফরিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, জেলা পরিষদের পাশে ফকির গার্মেন্টস সংলগ্ন সড়কের সাততলা একটি ভবনের নিচতলায় আগুন নেভানোর বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান ‘সেইফটি ফার্স্ট ফায়ার প্রটেকশন’। দোকানটিতে গতকাল দুপুর ১টার দিকে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্যাস রিফিল করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দোকানের মালিক রিয়াজ নামের এক ব্যক্তি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেইফটি ফার্স্ট ফায়ার প্রটেকশন দোকানটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিক্রি ও রিফিলিং করা হতো। এখানে কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্যাস দিয়ে রিফিলিং করা হতো। কিন্তু যে সিলিন্ডারে ওই কার্বন-ডাইঅক্সাইড রাখা হয়েছিল, সেটা অনেক পুরাতন। রিফিলিং করতে গিয়ে গ্যাসের প্রেশারে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তখন সিলিন্ডার মাথায় আঘাত করলে দোকানের কর্মচারী রফিকুল নিহত হন।’

দোকানটি আবাসিক যে ভবনে অবস্থিত তার একজন অংশীদার সালাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বাড়ির একটি ফ্ল্যাটের মালিক মাত্র। এখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান কে দিয়েছে তা আমি জানি না।’

ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবাসিক ভবনের নিচে গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলিংয়ের দোকানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।’

আড়াইহাজারে তিতাসের লিকেজের আগুনে দগ্ধের মৃত্যু : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের পাইপের লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ ফরিদ মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় ছোট বিনাইরচর এলাকার প্রয়াত আনছার আলীর ছেলে। গত বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ২ জানুয়ারি আড়াইহাজার পৌরসভা বাজারের দুবাই প্লাজার পাঁচতলায় রয়েল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের সঞ্চালন পাইপ থেকে আগুনের ঘটনায় তিনি দগ্ধ হন। একই ঘটনায় সেদিন আরও তিনজন দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পর ফরিদ মিয়াকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার তিন সন্তান রয়েছে।

মৃতের ভাই রাজু মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুনে ফরিদের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত