ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আগুন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৫৬ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালের পুরনো ভবনের জরুরি বিভাগের চারতলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশের বারান্দায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পৌঁছার আগেই হাসপাতালের কর্মচারী ও আনসার সদস্যারা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আগুনের ধোঁয়া আইসিইউর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লেও রোগীদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে পরিত্যক্ত ও ময়লা আবর্জনায় ফেলা জ্বলন্ত সিগারেটের খণ্ড অংশ থেকে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষও একই কথা বলছে। তারপরও আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢামেক কর্র্তৃপক্ষ।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন জানান, গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে আমরা আগুনের খবর পাই। এর দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই তিনটি ইউনিট হাসপাতালে পৌঁছায়। তবে আমাদের টিম যাওয়ার আগেই হাসপাতালের কর্মচারী, আনসার সদস্যরা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এটা বড় ধরনের কোনো আগুন ছিল না। তবে আগুনের ধোঁয়ায় আশপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

চতুর্থ তলার আইসিইউতে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসা. ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে আইসিইউর পাশের ব্যালকনি থেকে হালকা ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ধোঁয়ার পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের খবর দিলে তারা ছুটে আসেন। ততক্ষণে ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তবে আবর্জনা থেকে আগুন ধরে ওঠেনি। শুধু ধোঁয়াই ছিল।’ নার্স মৌসুমি খাতুন বলেন, ‘আইসিইউ’র একটি রুমে ১৯টি বিছানা রয়েছে। ঘটনার সময়ে ১৮টি বিছানায় রোগী ছিলেন। পাশেই আরও দুটি আইসিইউ রুম রয়েছে। সে দুটি রুম ফাঁকা ছিল। একই তলার পাশে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ১৮ রোগী ছিলেন। তবে আগুনে কোনো রোগীরই সমস্যা হয়নি।’ বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটলে হতাহতসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতো বলে মনে করছেন হাসপাতালের স্টাফরা।

আইসিইউর গেটের বাইরে অপেক্ষারত রোগী নাহিদ হোসেনের বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘শুরুতে ব্যালকনি থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখি। এরপর ধোঁয়া আরও বাড়তে থাকে। পরে ওখানে দায়িত্বরত চিকিসক-নার্স আমাদের বাইরে বের করে দেন। তবে তারা (ডাক্তার-নার্স) রোগীর পাশেই ছিলেন। তারা আমাদের ভরসা দিয়েছেন, তারা রোগীর পাশে আছেন। রোগীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, পরিত্যক্ত ময়লা আবর্জনা থেকে আগুন লেগেছে। দেখার পরপরই আমাদের কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও এসে তদারকি করেছেন। তিনি বলেন, কারও অবহেলা বা ইলেকট্রিসিটি থেকেও আগুন লাগতে পারে। তদন্ত করেই সেটা বুঝতে পারব। এজন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত