বর্তমান শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই নদী খননের কাজ শেষ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে উত্তরবঙ্গে প্রবাহিত নদীগুলোর খনন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর বিভাগে ৯৮টি প্যাকেজে ৮০৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৫৯ কিলোমিটার নদী খননের প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিভিন্ন প্যাকেজে শূন্য থেকে শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে। অনেকগুলো প্যাকেজে ৭৫ ভাগ ভৌত এবং ৪০ ভাগ আর্থিক অগ্রগতি রয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে সমাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকগুলো প্যাকেজে নদী খননে ব্যক্তিগত জমি থাকায় ও আদালতের নিষেধাজ্ঞাসহ নানা সমস্যায় কাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। আর কাজ শেষ হলেও বাজেট ছাড় হয়নি। এ কারণে আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি শতভাগ না হলেও কাজ শেষ হয়েছে।’
এদিকে বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজারগুলোর জ¦ালানি তেলের ব্যবহার অনলাইনে মনিটরিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সেন্সর বেইজ ডিভাইস স্থাপন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ ও প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজে লবণাক্ততাবিরোধী সিমেন্ট ও কেমিক্যাল ব্যবহারের উদ্যোগের কথা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা ডায়মন্ডসহ অন্য একটি সিমেন্টের লবণাক্তপ্রতিরোধী ক্ষমতা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং সালমা চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন।
