ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার ও সব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকরা। পাশাপাশি সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর চেরাগি পাহাড় মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার চট্টগ্রাম সবসময় সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিভক্ত ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ এ স্থাপনা ভাঙচুরকারীরা উল্টো হুমকি দিচ্ছে। সমাবেশ থেকে ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, একাত্তরের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহ আলম, নারীনেত্রী নুর জাহান খান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, খেলাঘরের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, জামাল খান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান প্রমুখ।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার করা; যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ঐতিহাসিক বাড়িসহ সম্পত্তি সরকারি অধিগ্রহণ ও সেখান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাদুঘর স্থাপন করা এবং সেখানে অতীতের সব লিজ/ইজারা বাতিল করা; ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষণ করা; মাস্টার দা সূর্য সেনসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সব যোদ্ধার স্মৃতি সংরক্ষণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ করা এবং পাঠ্যপুস্তকে বিপ্লবী কর্মকা-ের সঠিক ইতিহাস যুক্ত করা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্ম ও মৃত্যুদিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা।
