নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায় বিএনপি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩৩ এএম

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায় বিএনপি। নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা ও ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দলের দায়িত্বশীলরা। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে চসিক নির্বাচনে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। তবে গত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে দলের চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নগর যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। 

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, গত চসিক ও সংসদ নির্বাচনসহ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা সুখকর না হলেও এবারের নির্বাচন সামনে রেখে ভঙ্গুর হয়ে পড়া সাংগঠনিক ভিত্তিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার কাজ চলছে। ডা. শাহাদাতের নির্বাচন পরিচালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মীর মো. নাসির উদ্দিন, বেগম রোজী কবির, গোলাম আকবর খোন্দকার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান শামীম, এ এম নাজিম উদ্দিন, আবু সুফিয়ান ও আবুল হাশেম বক্কর। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে করা হয়েছে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ভোট চলাকালে ভোটকেন্দ্রে কর্মী-সমর্থকদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ চলছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিমধ্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে মতবিনিময় কর্মসূচি শেষ করেছেন ডা. শাহাদাত। গত মঙ্গলবার নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায়ও আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন চসিক নির্বাচন। সভা থেকে প্রতিটি এলাকায় মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলরদের পক্ষে একযোগে প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়। পরদিন দলের ১৫ থানা ও ৪৩ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শাহাদাত। এ সময় ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। শাহাদাত বলেন, ‘এ কাজ আমাদের জন্য অনেক কঠিন হলেও সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গত ১২টি বছর আমরা সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। মামলা-হামলা যা-ই হোক, সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে থাকতে হবে, জনগণকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. শাহাদাতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর। চসিক নির্বাচনে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। অতীতের মতো এবারের নির্বাচনে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা কোনো ধরনের জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’

এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচনে ভোট হয়। ভোটের দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল আলম। ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন। গত ৫ আগস্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হয়। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গত ২৯ মার্চ এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তখন নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। অন্যদিকে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত