নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশুর দুধ কেনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্যালক সুমন মিয়া (২৬) নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা দুলাভাই হাবিবুল্লাহকে (৩৬) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন কিশোরগঞ্জে রশিদাবাদ গ্রামের মৃত মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। আটক হাবিবুল্লাহ একই এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে। তারা ফতুল্লা মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকার বরিশাইল্যা রিপনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
নিহতের বোন হোসনে আরা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তিন বছর আগে তার বিয়ে হয়। পাঁচ মাস আগে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। আর তার ভাই সুমন তাদের সঙ্গেই থেকে গার্মেন্টসে কাজ করেন। প্রায় এক মাস ধরে শিশুপুত্রের দুধ কিনে দেয় না স্বামী। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় সুমনের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে তার ভাই বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়ালে স্বামী হাবিবুল্লাহ পেছন থেকে গিয়ে সুমনকে পরপর কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন হাবিবুল্লাহকে আটক করে আর সুমনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাবিবুল্লাহকে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্যালক সুমন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়রা দুলাভাই হাবিবুল্লাহকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। (ছবি দেয়া হয়েছে)
