ক্র্যাবের বার্ষিক সভায় আইজিপি

পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করতে অভিযান চলছে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩৫ এএম

পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করতে শুদ্ধি অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে চাই। আমরা চেষ্টা করছি, আগে নিজেদের ঘরকে শুদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা গঠনমূলক সমালোচনা চাই, বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট চাই। রিপোর্টে আমরা কোনো সাহিত্য প্রত্যাশা করি না। বিচারের আগে বিচার করবেন না। অনেক সময় দেখা যায়, বিচারের আগে বিচার শেষ।’

ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে সেগুনবাগিচার ক্র্যাব চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু।

সাংবাদিকদের ‘ওপেনিয়ন বিল্ডার’ আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সমাজের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করে। সাংবাদিকদের একটি রিপোর্ট মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে পারে। সে জন্য আপনাদের কলমের ক্ষমতা মাথায় রাখতে হবে। সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অর্থাৎ ল এনফোর্সমেন্ট প্র্যাকটিশনাররা একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন। আপনারা আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।

পুলিশপ্রধান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সুসংহত করার জন্য বিগত দিনে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, সেখানে রাজনীতিবিদ ও দেশের আপামর জনগণের সঙ্গে সাংবাদিকরাও সমানতালে কাজ করেছেন। আমাদের স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তরকালে সাংবাদিকরা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা যদি দায়িত্বের ঊর্ধ্বে থেকে কোনো অপকর্ম করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের মনোভাব অত্যন্ত কঠোর।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে যদি কোনো মাদকসেবী থাকে, তাহলে তাকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ডোপ টেস্ট করছি। এর মধ্যে পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা আমাদের ঘর পরিচ্ছন্ন করতে চাই। এ ছাড়া কেউ কেউ মাদক সেবন করেন না, কিন্তু মাদকের সঙ্গে জড়িত। এমন পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদেরও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও আমরা শূন্য সহিষ্ণুতা বাস্তবায়ন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ এবং সাংবাদিকতা উভয় পেশাই ঝুঁকিপূর্ণ। সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে করোনাকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য দিয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে র‌্যাবের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত