যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্রায়ান ডি সিকনিক। এ নিয়ে গত বুধবারের সহিংসতায় নিহত বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়াল বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
অন্যদিকে ভবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন ক্যাপিটল হিলের পুলিশপ্রধান স্টিভেন সান্ড। ক্যাপিটল পুলিশের এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে জানান, আগামী ১৬ জানুয়ারি তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।
পদত্যাগপত্রে স্টিভেন সান্ড লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশ বোর্ড ও দি কংগ্রেশনাল কমিউনিটির সেবা সব সময় আনন্দের এবং আমি তা করতে পেরে সত্যিই গর্বিত।’ গত বুধবার ট্রাম্পের উসকানিতে কংগ্রেস ভবনে তার শত শত উগ্র সমর্থক হামলা চালায়। হামলাকালে কংগ্রেসে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন চলছিল। বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা ঠেকাতেই এ হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ সময় আইনপ্রণেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চড়াও হয় ক্যাপিটল পুলিশ। তাদের গুলিতে এক নারী নিহত হন। অ্যাশলি বাবিট নামে ৩৫ বছর বয়সী ট্রাম্প সমর্থক ওই নারী ছিলেন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য।
এক বিবৃতিতে ক্যাপিটল পুলিশ জানায়, সহিংসতায় তাদের অন্তত ১৪ সদস্য আহত হন। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রায়ানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ২০০৮ সালে ক্যাপিটল পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন।
সহিংসতার ঘটনায় ক্যাপিটল পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে পদত্যাগ করার আগে এক ঘোষণায় স্টিভেন সান্ড তার বাহিনীর পক্ষেই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘সহিংস হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতায় আমি এমনটি আগে দেখিনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
যদিও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আগেই স্টিভেন সান্ডকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ক্যাপিটল পুলিশের অনেক সদস্য সাহসী ভূমিকা রাখলেও বাকিদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের ব্যর্থতার জন্যই এমনটি হয়েছে।’
