নাটোরের নলডাঙ্গায় ভিজিএফের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই ধর্ষণের ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। গত বছরের ৩ অক্টোবরের ওই ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নলডাঙ্গার পিপরুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম দেওয়ান ও তার সহযোগী একই গ্রামের বকুল হোসেন। তাদের আরেক সহযোগী একই গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল পলাতক রয়েছেন।
এদিকে রাজবাড়ীর কালুখালীতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো দুলাভাই মাসুদ ফকিরের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল শনিবার গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা করেছেন।
নাটোরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় বলা হয়েছে, গত বছরের ৩ অক্টোবর বিকেলে নলডাঙ্গার পিপরুল ইউনিয়নে এক দিনমজুরের স্ত্রীকে ভিজিএফের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম দেওয়ান। পরে ওই নারীকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় তার দুই সহযোগী বকুল ও রেজাউল ধর্ষণের দৃশ্যের ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। এ ঘটনা কাউকে বলতে বারণ করে গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি সবসময় তাকে নজরদারিতে রাখতেন ইব্রাহিম দেওয়ান। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে গত শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় ইব্রাহিম দেওয়ান, বকুল হোসেন ও রেজাউল করিমকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম ও বকুলকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম দেওয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সালিশের নামে প্রতারণা, ছিনতাই, সুদ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিপরুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ড দেওয়ার নামে ইব্রাহিম দেওয়ান যে নোংরামি করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় তিনি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। তাই এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তেভোগী গৃহবধূ শুক্রবার রাতে একটি ধর্ষণ মামলা করলে আমরা অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করি। তবে মামলার আরেকজন আসামি পলাতক রয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে, খুব দ্রুত তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’
রাজবাড়ীতে শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা : রাজবাড়ীর কালুখালীতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো দুলাভাই মাসুদ ফকিরের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মাসুদ ফকিরকে গ্রেপ্তার ও ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার মাসুদ কালুখালীর দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কালুখালীর এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৭ জানুয়ারি রাতে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে চাচাতো দুলাভাই মাসুদ ফকির ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে স্কুলছাত্রীকে কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে প্রেমিক গোয়ালন্দঘাট (দৌলতদিয়া) রেলওয়ে স্টেশনে আছেন বলে স্কুলছাত্রীকে জানান মাসুদ ফকির। এরপর মাহেন্দ্রতে চড়িয়ে স্কুলছাত্রীকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর এক নম্বর গেটের সামনে নিয়ে এলে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি এসে মাসুদ ফকিরের সঙ্গে কথা বলে। তারা মাসুদ ফকিরকে কিছু টাকা দেয়। এরপর তিনি স্কুলছাত্রীকে নিয়ে যৌনপল্লীর ভেতরে রওনা হন। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর পল্লীর মেয়েদের দেখে স্কুলছাত্রীর সন্দেহ হলে সে ভেতরে যেতে আপত্তি করে। এ সময় মাসুদ তাকে জোর করে ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্কুলছাত্রী চিৎকার শুরু করে। তখন আশপাশের লোকজন স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও মাসুদ ফকিরকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কালুখালীর এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে তার চাচাতো দুলাভাই বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় জনগণ ওই ব্যক্তিকে আটক ও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা থানায় একটি অভিযোগ করেন।’
রূপগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তরুণীকে ধর্ষণ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মির পর হাত-পা বেঁধে এক তরুণী (২২) পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার খালপাড় এলাকার ওই ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে শাহীন বীর (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ওই দিন রাতেই শাহীনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। গ্রেপ্তার শাহীন একই উপজেলার গোলাকান্দাইল নতুন বাজার এলাকার ইয়াকুব আলীর বাড়ির ভাড়াটে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী নতুন বাজার এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মী। স্বামীকে নিয়ে স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ১ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শাহীন নামে এক যুবকের রিকশায় ওঠেন তিনি। পরে খালপাড় এলাকায় পৌঁছালে ওই তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মির পর হাত-পা-মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে শাহীন। ঘটনার পর প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতির কারণে এত দিন থানায় অভিযোগ বা কাউকে জানাননি ওই তরুণী। কিন্তু গত সোমবার ভুক্তভোগীর স্বামীর মোবাইল ফোনে কল করে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের কথা জানায় ও ফের ধর্ষণের হুমকি দেয় শাহীন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন ওই তরুণী। মামলার পরপরই শাহীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, গতকাল আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মাগুরা সদর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গাংনালীয়া গ্রামের ওই ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেলে টিটো মোল্লা (৩০) নামে এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ওই দিন দুপুরে নির্যাতিতার ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। অভিযুক্ত টিটো একই এলাকার কামরুজ্জামান মোল্যার ছেলে।
স্বজনদের দাবি, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে একটি বাগানে পাতা কুড়াতে যায় শিশুটি। এ সময় প্রতিবেশী টিটো শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানোর পর তারা এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন ভুক্তভোগীর ভাই। এরপর ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন জানান, ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
