রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পূর্ব নাখালপাড়ায় দুই বোন খুন হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বড় বোন ইয়াসমিন আক্তারকে (৩০) কুপিয়ে এবং ছোট বোন শিমু আক্তারকে (১৬) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াসমিনের সাবেক স্বামী রিকশাচালক রনি মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এদিকে আটক রনি মিয়া সাবেক স্ত্রী ও শ্যালিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছেন, চার মাস আগে ইয়াসমিনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ইয়াসমিন শিল্পাঞ্চল এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শিমু সম্প্রতি নাবিস্কো এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিয়েছিল। তাদের বাড়ি নরসিংদীতে। রনির বাড়ি জামালপুরে। রনি রিকশা চালালেও বেশিরভাগ সময় বেকার থাকতেন। জুয়া খেলার পাশাপাশি মাদক সেবনও করেন তিনি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে চার মাস আগে রনিকে তালাক দেন ইয়াসমিন। এতে রনি ক্ষুব্ধ হন। গত ১ জানুয়ারি ইয়াসমিন ও শিমু ২৫৩/৩ পূর্ব নাখালপাড়া ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে ভাড়ায় ওঠেন। রনি-ইয়াসমিন দম্পতির দুই মেয়ে। তিন বছরের মেয়ে নরসিংদীতে নানির বাসায় থাকে। বড় মেয়ে রোকসানা ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে মায়ের সঙ্গে থাকে। রোকসানা জানায়, তালাকের আগে প্রায়ই মাকে বাবা মারধর করতেন। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে জুয়া খেলতেন ও মাদক সেবন করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইয়াসমিনের বাসায় যান রনি। তখন শিমু বাসায় ছিল। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে কম্বলে পেঁচিয়ে খাটে শুইয়ে রাখেন রনি। ইয়াসমিনের অপেক্ষায় লাশের পাশে বসেছিলেন তিনি। কারখানা থেকে টিফিন সময়ে দুপুর ১টার দিকে ইয়াসমিন বাসায় আসেন। ঘরে প্রবেশমাত্র রনি বঁটি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ইয়াসমিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। জানালা দিয়ে কোপাতে দেখেন তারা। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে রনি দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দরজা ও জানালা ভেঙে লোকজন ঘরে ঢুকে রনিকে আটকে গণধোলাই দেয়। পরে তারা রনিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
প্রতিবেশী মীর মিনার জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি বাসায় গোসল করছিলেন। হঠাৎ পাশের বাড়ির তৃতীয় তলায় নারীর চিৎকার শোনেন। জানালায় উঁকি মেরে তিনি দেখেন, রনি তার সাবেক স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। বারবার জানালার ওপাশ থেকে তিনি রনিকে বারণ করেন। কিন্তু কোনো কথায় কর্ণপাত না করে তিনি কোপাতে থাকেন। এক পর্যায়ে জানালা ভেঙে ওই বাসায় ঢোকেন। এ সময় আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। ততক্ষণে রক্তক্ষরণে ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করেছে। সন্ধ্যায় পুলিশ দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি বিপ্লব কুমার শীল বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে পারিবারিক কলহের জেরে রনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। প্রথমে শ্যালিকাকে শ্বাসরোধে এবং পরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত বঁটিসহ রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত রনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
