রাজারবাগে আইজিপি

মহামারীতে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের প্রচেষ্টা মহাকাব্যিক

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:১৫ এএম

করোনা মহামারী মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল মহাকাব্যিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘ওয়ার্ড বয় থেকে চিকিৎসক-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসক এখানকার সবাই ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত মমত্ববোধের মাধ্যমে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। এজন্যই হাসপাতালটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের কভিড-১৯ সম্মুখযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের মতো সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা হওয়ায় করোনা  নিয়ে আমাদেরও পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। তবে আমাদের বুকভরা সাহস ও পরাভব না মানার প্রত্যয় ছিল। আমরা হতবিহ্বল না হয়ে দুর্দমনীয় প্রত্যয় নিয়ে করোনা মোকাবিলা করেছি। শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পুলিশের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের পুলিশের উপযোগী গাইডলাইন তৈরি করেছি।’

বেনজীর আহমেদ জানান, ২৫০ থেকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ৫০০ শয্যা, মাত্র তিন সপ্তাহে পিসিআর ল্যাব স্থাপন, পরে প্লাজমা ব্যাংক স্থাপন ও প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল দক্ষতার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার পাশাপাশি মনোবল তৈরি করেছে। অনভিজ্ঞতার সঙ্গে কোনো সুরক্ষাসামগ্রী ছিল না। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে জনগণের সুরক্ষায় মাঠে থেকেছে পুলিশ। দায়িত্ব পালনকালে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। পরে প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে শুধু পুলিশ সদস্য নয়, আমলা, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা এটিকে বিশ্বমানের বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করতে চাই। ভবিষ্যতে ক্যাথল্যাব স্থাপন ও ক্যানসার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকায় একটি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বিভাগীয় ও জেলা শহরের পুলিশ হাসপাতালগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। আমরা অনেক দূর এসেছি, যেতে হবে আরও বহুদূর।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আগামীতে আরও ভালো করতে হবে। আমরা আকাশ ছুঁতে চাই। আমরা সবাই হাতে হাত ধরে একযোগে দেশের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ পুরস্কার সরকার, পুলিশ ও দেশের মানুষের পক্ষ থেকে আপনাদের স্বীকৃতি। এটি পুলিশ সদস্যদের আরও বেশি ভালো কাজে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

পরে আইজিপি করোনার সম্মুখযোদ্ধাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (এঅ্যান্ডও) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, হাসপাতালের পরিচালক ড. হাসান-উল-হায়দার, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নেওয়া ‎র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত