চলে গেলেন সাংবাদিক, কলামনিস্ট ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান (৫৩)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মিজানুর রহমান খান মা, স্ত্রী, তিন সন্তান, পাঁচ ভাই, তিন বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনরা শোক জানিয়েছেন। মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা হবে বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এরপর দুপুর ১২টায় তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। পরে তাকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।
মিজানুর রহমান খান করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। গত ২ ডিসেম্বর তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ৫ ডিসেম্বর তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে শারীরিক সমস্যা বাড়লে ১০ ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মিজানুর রহমান খানকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদ আহমেদ সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, মিজানুর রহমান খানকে কভিড-১৯ জোনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর আবার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। পরে তাকে সবুজ জোনে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এত দিন তাকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, তার ফুসফুসের ৯৬ শতাংশ সংক্রমিত। তিনি অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। ৯ জানুয়ারি তার অক্সিজেনের চাহিদা বাড়তে থাকে। ওই দিন বিকেল পৌনে ৫টায় তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট (কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস) দেওয়া হয়। তার রক্তচাপও কমে যায়। এর মধ্যেই সোয়া ৫টায় হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ মাহমুদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমান খান ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। বরিশালের বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী মিজানুর রহমান খান তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা করেছেন। সংবিধান ও আইন নিয়ে লেখালেখি করেন। উল্লেখযোগ্য বই সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক, ১৯৭১: আমেরিকার গোপন দলিল।
