নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আশরাফুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার গাংনী পৌরসভার শিশিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তার লাইসেন্স করা পিস্তলসহ ৯ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকেসহ তার ১২ কর্মীকেও পিটিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ আশরাফুল ইসলামের।
তিনি ওই ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী আহম্মদ আলী ও তার ‘বহিরাগত ক্যাডার’ ইসমাইল হোসেনকে দায়ী করে হামলার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৬ জানুয়ারি গাংনী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাংনী পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের শিশিরপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ‘বহিরাগত ক্যাডার’ ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আহম্মদ আলীর লোকজন তার ওপর হঠাৎ হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে তার ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা পিস্তলসহ ৯ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ১২ কর্মীকেও পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আশরাফুলের অভিযোগ, গত কদিন ধরেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত রবিবার যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের পর ‘দুর্বৃত্তরা’ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রাতে তার বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার হুমকি দিয়ে আসা হয়। এরপর সেদিন রাতেই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কিছু ‘বহিরাগত দুর্বৃত্ত’ তাকে হুমকি দিচ্ছে জানিয়ে গাংনী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আশরাফুল।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী শিশিরপাড়ার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম জানান, আশরাফুল ইসলাম বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলার সময় ১৫-২০ জনকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। অস্ত্র ছিনিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
এদিকে আশরাফুলের ওপর হামলার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা শহরে একটি নির্বাচনী মিছিল বের করে।
আশরাফুলের ওপর হামলায় নেতৃত্বের অভিযোগ ওঠা ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আহম্মদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান মেয়রের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। অথচ তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগের পরিচয় দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এটা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। এরই জের ধরে কে বা কারা তার ওপর হামলা করেছে তা জানি না।’ একই সঙ্গে কারা মেয়র আশরাফুলের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে এবং সেই অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধভাবে করা হয়েছিল কি না তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান এ আওয়ামী লীগ নেতা।
গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবলীগ-ছাত্রলীগের কিছু কর্মী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আশরাফুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। পুলিশ তার বৈধ অস্ত্রটি উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল।’
তদন্ত করে আশরাফুলের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি বজলুর রহমান।
