সাড়ে ১৯ লাখ মৃত্যু এক বছরে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:০৯ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি চীনে। এরপরে চীনের বাইরে প্রথম মৃত্যুর খবর আসে আরও পরে। প্রথম দিকে মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। মার্চ-এপ্রিল নাগাদ বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার থেকে ৭ হাজারে ওঠে। এরপর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ৫ হাজার করে মানুষের মৃত্যু হয় করোনায়। কিন্তু নভেম্বরে এসেই তা দশ হাজার ছাড়িয়েছে যায়। ডিসেম্বরের কোনো কোনো দিন তা ১৩ হাজারও ছাড়িয়ে যায়। এভাবে গতকাল ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার। 

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে অন্তত ৯ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ লাখ ৪৫ হাজারের। এই সময়ের মধ্যে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যাও সাড়ে ৬ কোটি ছাড়িয়েছে।   

এদিকে করোনার উৎসস্থল চীনের মূল ভূখন্ডে গত রবিবার পাঁচ মাসের মধ্যে করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাজধানী পেইচিং ঘিরে থাকা হেবেই প্রদেশে নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধিতে এমনটি হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে তারা।

পৃথকভাবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি কাউন্টি সোমবার থেকে লকডাউনে চলে গেছে।

এক বিবৃতিতে জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) জানিয়েছে, ১০ জানুয়ারি নতুন করে ৮৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, এদের মধ্যে ৮২ জন হেবেই প্রদেশের, দুইজন লিয়াওনিং প্রদেশের ও একজন পেইচিংয়ের বাসিন্দা। দেশটিতে এদিন বিদেশ থেকে ফেরা ১৮ জনের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে এনএইচসি জানিয়েছে।

এসব নতুন সংক্রমণের সংখ্যা গত বছরের প্রথম দিকে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকাকালে দৈনিক আক্রান্তের তুলনায় অত্যন্ত কম হলেও রোগের বিস্তার ঠেকাতে ও দেশব্যাপী সংক্রমণের নতুন ঢেউ রোধ করতে দেশটির কর্র্তৃপক্ষগুলো জোরদার পদক্ষেপ নিয়েছে। হেবেইয়ের রাজধানী ও নতুন প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল শেচিয়াচুয়াংয়ে লকডাউন জারি করা হয়েছে। নগরীর গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং লোকজন ও গাড়ির শহর ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

চীনের মূল ভূখন্ডে নিশ্চিত কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮৭ হাজার ৫৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে আর মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত অবস্থায় চার হাজার ৬৩৪ জনেই রয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত