রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে কভিড-১৯ ইউনিটের পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে ফের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক, হাসান এমএস আজিম, মুনতাসির আহমেদ ও রিটকারী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব। ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
ব্যারিস্টার হাসান আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি ইউনাইটেড হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা ও অকার্যকরতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। ওই পাঁচজন হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভারনন অ্যান্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫) এবং মো. মাহবুব (৫০)।
এ ঘটনায় বিচারিক তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুলাই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। মনির হোসেনের পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতা হওয়ায় এ বিষয়ে তখন কোনো নির্দেশনা দেয়নি হাইকোর্ট।
এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ইউনাইটেড কর্র্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত গত ২১ জুলাই আদেশটি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য রাখে। ২০ আগস্ট আপিল বিভাগ এক আদেশে এ ঘটনায় বিচারিক তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদন হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে নতুন করে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেয়। ফলে চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে হাইকোর্টের আদেশটির কার্যকারিতা থাকে না বলে তখন জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন করার পর এ আদেশ হলো।
