লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের অর্থপাচার বিষয়ে দায়মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক আরেফিন আহসান মিঞার স্বাক্ষরিত সব নথি তলব করেছে হাইকোর্ট।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে আগামী ২৪ জানুয়ারি নথি দাখিলের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট নথিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমানের স্বাক্ষর না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।
পরে এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাপুল ও তার স্ত্রী-মেয়ে অর্থপাচার করেননি এবং তাদের আয়ের উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি বলে ব্যাংক কর্মকর্তার (আরেফিন আহসান মিঞা) স্বাক্ষরিত নথি তলব করেছে আদালত। নথিতে ব্যাংক কর্মকর্তা মশিউর রহমানের স্বাক্ষর না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।’
গত ১১ নভেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এসব কাজে তাকে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন।
এর আগে গত বছরের ৭ জুন মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। তদন্তের পর সেখানকার একটি ব্যাংকে জমাকৃত পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ফ্রিজ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারেই আছেন। আগামী ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের আদালতে পাপুলের মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
