বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইপর্বে এখনো জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে অর্জন মাত্র এক পয়েন্ট। নিজেদের মাটিতে বাকি তিন ম্যাচ থেকে জয়সহ কিছু পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য জেমি ডে’র শিষ্যদের। এমন অবস্থায় ই গ্রুপে ভারত, আফগানিস্তান এবং ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ তিনটি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। কিন্তু বাংলাদেশ তাতে রাজি নয়। কারণ হোম অ্যাডভান্টেজ হারিয়ে মার্চে খুব কম সময়ের মধ্যে ম্যাচ তিনটি খেলা সম্ভব নয় বাংলাদেশের। কোচ জেমি ডেও চান না ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ নষ্ট করতে।
দোহায় ৪ ডিসেম্বর স্বাগতিক কাতারের কাছে ৫-০তে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কাতারের প্রস্তাবে করোনাকালেই জাতীয় দলকে দোহায় পাঠাতে রাজি হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। অথচ জেমির মোটেই ইচ্ছে ছিল না অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে এশিয়ার সেরাদের মোকাবিলার। কিন্তু দু’দেশের ফুটবলকর্তাদের মধ্যে সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ায় খেলতে হয়েছে। তবে এবার সেটা মানবেন না জেমি। নতুন সূচি অনুযায়ী ২৫ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার কথা বাংলাদেশের। এরপর ৭ জুন ভারত ও ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচ। তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা সিলেটে। জেমি সাফ জানিয়েছেন, ওমান-কাতারের প্রস্তাবে রাজি হওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কাতারের ম্যাচের পর দোহা থেকেই দেশে ফিরে যাওয়া জেমি ডে’র আজ ঢাকায় ফেরার কথা। মূলত গতকাল থেকে শুরু বিপিএলের ম্যাচগুলো দেখে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় পছন্দের কাজটি করবেন তিনি। যদিও ঢাকায় নেমে তাকে বাধ্যতামূলক দু’সপ্তাহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে হবে। কাল ঢাকার বিমান ধরার কিছু সময় আগে জেমি আরব দেশ দুটির প্রস্তাব প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই প্রস্তাবে রাজি হওয়া মানে আট ম্যাচের সাতটিই আমাদের দেশের বাইরে খেলতে হবে। যেটা হবে খুব বাজে সিদ্ধান্ত।’ ভারত ও আফগানিস্তানের ওমানে গিয়ে খেলতে রাজি হওয়া প্রসঙ্গে জেমি বলেন, ‘আমার মনে হয় আফগানিস্তান ও ভারত আমাদের এখানে না এসে ওমানে খেললে বাড়তি সুবিধা পাবে। তাই তারা সম্মত হয়েছে। বাট সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে না।’
কোচের মতো জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদও ওমান বা কাতারে গিয়ে খেলতে রাজি নন। গতকাল বাফুফের এই সহ-সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে যে ফিকশ্চার আছে সেই অনুযায়ী আমাদের ম্যাচগুলো বাংলাদেশেই খেলতে আগ্রহী। তবে ফিফা বা এএফসি যদি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেটা ভিন্ন কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে চাই। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত লিগ চলবে। এরপর ক্যাম্প শুরু হবে।’ নাবিল আরও বলেন, ‘কভিডের কারণেই মূলত এই প্রস্তাব এসেছে। অন্য দেশগুলো মনে করছে বিভিন্ন দেশে গিয়ে খেলার চেয়ে কোয়ারেন্টাইন সময়, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অনুশীলনের সময় সবকিছু সাশ্রয় করার জন্য এক জায়গায় গিয়ে খেলা ভালো। তাতে ম্যাচগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। ওমান প্রস্তাব দিয়েছে ২৪, ২৭ ও ৩০ মার্চ আমাদের তিনটি ম্যাচ খেলার। তাতে আমরা রাজি নই। তবে শেষ পর্যন্ত এএফসির সিদ্ধান্ত মানতে হলে নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।’
