টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে হয় ক্রেইগ ব্রাথওয়েটকে। এ পর্যন্ত ৫ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। হতাশার বিষয় আগের ৫ টেস্টের কোনোটিতেই জিততে পারেননি। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে একটি করে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বার্বাডিয়ান। সব ম্যাচে হারের পাশাপাশি একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই ইনিংস হার হজম করতে হয়েছে তার দলকে। অধিনায়ক হিসেবে তাই প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে চান ব্রাথওয়েট বাংলাদেশের সঙ্গে আসন্ন সিরিজে।
গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ৬৪ টেস্ট খেলা ব্রাথওয়েট বলেন, ‘যে কেউই জিততেই মাঠে নামে। অধিনায়ক হিসেবে সেই চাওয়াটা আরও বেশি থাকে। কিন্তু এখনো আমি অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট জিততে পারিনি। এটা অবশ্যই আমাকে পীড়া দেয়। তবে সামনের সিরিজে এটা নিয়ে ভাবছি না। আমরা পরিকল্পনা মতো খেলতে চাই। যে পরিকল্পনাগুলো হবে সেগুলো সবাই মাঠে প্রতিফলন করলে অবশ্যই জেতা সম্ভব।’
তাহলে জয়ের জন্য কী পরিকল্পনা করেছেন ব্রাথওয়েটরা? উইন্ডিজ অধিনায়ক অবশ্য এখনো অনুশীলন শুরু করতে না পারার অজুহাত টানলেন। অনুশীলন করে পরিবেশ অনুযায়ী ম্যাচ পরিকল্পনা সাজাবেন তারা। সেই পরিকল্পনায় অবশ্যই শীর্ষে থাকবে সিরিজ জেতার বিষয়টি। কিন্তু এর জন্য কোনদিক থেকে এগিয়ে উইন্ডিজ। তরুণ-অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এমনিতেই ব্যাকফুটে সফরকারীরা। ফিল সিমন্সের পর অধিনায়ক ব্রাথওয়েটও তা স্বীকার করলেন। তবুও একটি দিকে এগিয়ে থাকার ব্যাপারে সম্মতি তার, ‘অবশ্যই অচেনা ক্রিকেটারদের নিয়ে আমরা একটু সুবিধা পাব। আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররা বেশ প্রতিভাবান। তারা সবাই সিরিজে ভালো করার জন্য ক্ষুধার্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা ওদের এখনো খেলেনি, এটা সাহায্য করবে। কিন্তু আমাদের নতুনরাও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেনি। আসলে ব্যাটে-বলে যারা সাবলীল খেলবে তারাই ম্যাচ জিতবে। এখানে আগের অভিজ্ঞতার বিষয় কোনো গুরুত্ব রাখে না। প্রতিটিই নতুন ম্যাচ, প্রতিটিই নতুন শুরু।’
ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে দুটি সিরিজ খেলেছেন ব্রাথওয়েটরা। দুই দেশের পরিবেশ প্রায় এক রকম। কিন্তু তৃতীয় সিরিজের ভেন্যু বাংলাদেশের পরিবেশ পুরোপুরি ভিন্ন। আজ থেকেই নিজেরা অনুশীলন করতে পারছেন। মাঠে নামার জন্য নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা মোটেও কঠোর অনুশীলনে যাব না। ওয়ানডে শুরু হতে এখনো সময় আছে। হালকাভাবেই শুরু করব। কারণ কঠোর অনুশীলনে এমন পরিবেশে ইনজুরির শঙ্কা থাকে। আমাদের লক্ষ্য শুরুতে জড়তা কাটানো।’
২০১৮’র সিরিজ খুবই বাজে কেটেছিল ব্রাথওয়েটের। দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ২২ রান। সেবার শুধু ব্রাথওয়েট নন পুরো উইন্ডিজই কাবু হয় বাংলাদেশের স্পিনের কাছে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ এখন পেশিশক্তি নির্ভর। তবুও এক নম্বর স্পিনার সাকিব আল হাসানসহ অপর একজন স্পিনার তো থাকবেনই। এবার স্পিনের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রাথওয়েট বলেন, ‘যে কোনো দলের তাদের নিজেদের মাটিতে আলাদা শক্তি থাকে। সেটা মোকাবিলা করা সব সফরকারী দলের জন্য চ্যালেঞ্জের। আমাদের জন্যও সেবার স্পিনটা চ্যালেঞ্জের ছিল। বাংলাদেশ স্পিনে সবসময়ই ভালো, ওই সিরিজেও ভালো করেছিল। এবারও সেরকম কিছু হবে। কিন্তু আমরা এখনো কোনো কিছু ভেবে রাখিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিকল্পনা করব। তবে আমাদের উচিত হবে নিজের ওপর আস্থা রাখা। যে পরিকল্পনাই হবে দলের জন্য তার প্রতিফলন করা।’
