যশোরে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে থাকা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টার দিকে শহরের শামসুল হুদা স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, তার শরীরের আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তাকে ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে যশোর শহরের পুরাতন কসবায় শহীদ মিনারে ইমরান হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হাসান বিপুসহ চারজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুরের পর বিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর রাতেই অসুস্থ অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
অবশ্য মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে বিপু জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তখন তিনি বলেন, হামলার শিকার পুলিশ সদস্যকে তিনি রক্ষা করেছেন। কারণ ওই সময় ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, রিকশায় করে না নিয়ে গেলে আরও খারাপ ঘটনা ঘটতে পারত। বিপু তখন তরুণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে গতকাল হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় যাওয়ার আগে মাহমুদ হাসান বিপু অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমন নির্যাতন কেউ চোরকেও করে না। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। অথচ আমাকে চোরের মতো পেটানো হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে দোয়া কামনা করি। যাতে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারি।’
বিপুকে ঢাকা নেওয়ার সময় শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারসহ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থেকে বিপুকে সাহস জোগান।
যশোরে বিপুকে চিকিৎসা দেওয়া অর্থোপেডিক সার্জন আবদুর রউফ জানান, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। তার সুস্থ হতে সময় লাগবে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, ক্রমেই অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বিপুকে নির্মম নির্যাতন করে পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে শহরের অনেক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন তিনি।
অবশ্য পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন দাবি করে বলেছেন, পুলিশ হেফাজতে বিপুকে কোনো প্রকার মারধরের ঘটনা ঘটেনি। উনি একজন সম্মানিত লোক। জিজ্ঞাসাবাদের কিছু নিয়ম আছে সেগুলো মেনেই আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ওনাকে হেফাজতে মারার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তারপরও অভিযোগ যেহেতু আসছে সে কারণে সিনিয়র কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত টিম করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো ব্যত্যয় হলে তা তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই বলা সম্ভব হবে।
এদিকে পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় বিপুর সঙ্গে আটক শাহিনুজ্জামান তপু ও ইমামুল হককে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এছাড়া অন্যরা নিরপরাধ হওয়ায় তাদের আসামি করা হয়নি।
