বাতজ্বরকে ইংরেজিতে বলে রিউমেটিক ফিভার, এটা বাচ্চাদের প্রদাহজনিত রোগ। গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস নামের অণুজীবের সংক্রমণের পর তার বিরুদ্ধে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা আবার হৃৎপিন্ড, ব্রেইন, পিঠ, চামড়া ইত্যাদি স্থানের টিস্যুকে আক্রমণ করে প্রদাহজনিত রোগের সৃষ্টি করে।
ঝুঁকিপূর্ণ কারা
সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের বাতজ¦র বেশি হয়। দলবদ্ধ থাকলে বা ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় বসবাস করলে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে রোগ হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে বাতজ¦রের ঝুঁকি কমে যায়।
বাতজ্বর হলে বুঝবেন কী করে
বাতজ্বর ব্রেইন, হৃৎপিন্ড, মেরুদন্ড ও ত্বক ইত্যাদি স্থানকে আক্রান্ত করে। বাতজ¦রের ৫টি মুখ্য এবং কিছু গৌণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মুখ্য বৈশিষ্ট্য হলোÑ ১. হৃৎপি-ের প্রদাহ ২. হাত ও পায়ের বিভিন্ন জয়েন্টে প্রদাহ ৩. ব্রেইন প্রদাহজনিত কাঁপুনি ও খিঁচুনি ৪. চামড়ায় লাল দাগ।
আর গৌণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে হাতে-পায়ে হালকা ব্যথা, জ্বর বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চতা বেড়ে যাওয়া।
গৌণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে হৃৎপিন্ড প্রদাহ শতকরা ৪০ থেকে ৮০ ভাগ বাচ্চার হতে পারে। হৃৎপি-ের কম্পন বেড়ে যাওয়া এবং হৃৎপিন্ড বড় হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত স্পন্দনও লক্ষণ।
এছাড়া শতকরা ৭০ ভাগ রোগীর হাত-পায়ের জয়েন্টে এই প্রদাহ হতে পারে। এর ফলে জয়েন্ট ব্যথা করে এবং ফুলে যায়। সাধারণত মাংসপেশিতে ব্যথা করে না।
তাই পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হলেই বাতজ্বর ভাবা ঠিক নয়। পায়ে ব্যথার কারণ হলো ‘গ্রোয়িং পেইন’ নামক সাধারণ সমস্যা। ‘গ্রোয়িং পেইন’ হলেও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধারনা করা হয়, শিশুর সারা দিনের দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি ও খেলাধুলা এর জন্য দায়ী। সাধারণত তিন বা চার বছর বয়স থেকে শিশুর গ্রোয়িং পেইন শুরু হয় এবং আট থেকে বারো বছর বয়স পর্যন্ত এই ব্যথা অনুভব করে। পরে ধীরে ধীরে ব্যথার মাত্রা কমে যায়। শিশুর গ্রোয়িং পেইন তেমন কোনো ক্ষতি করে না। বেশিরভাগ সময় গ্রোয়িং পেইন শিশুর উরুর সামনের বা পায়ের পেছনের মাংসপেশিতে হয়। কখনো কখনো হাতেও ব্যথা হতে পারে। তবে কখনোই এই ব্যথা হাত-পায়ের কোনো জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করে না। শিশুর গ্রোয়িং পেইন কমানোর জন্য তার পায়ের মাংসপেশির কিছু ব্যায়াম করতে হবে। পাশপাশি হালকা গরম করে সেক দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিতে হবে।
