চিঠি চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩১ এএম

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা ভোজ্য তেলের বাজারে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে করোনার মধ্যেই চড়ছে পণ্যটি। তিন স্তরের পরিবর্তে এক স্তরের ভ্যাট নির্ধারণ অথবা লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করতে চান আমদানিকারকরা। কয়েক দফা বৈঠকের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভ্যাট কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই দফায় চিঠিও দিয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এনবিআর। আমদানির খবরে কিছুটা কমেছে চালের দাম। তবে কিছুটা স্বস্তি আছে মাছ ও সবজির বাজারে। অন্যদিকে নতুন করে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে না সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর এখন কিছুটা স্বাভাবিক পেঁয়াজের দাম।

তেলের দামের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় পণ্যটির দাম বেড়েছে। আগে আমদানিতে এক স্তরে ভ্যাট ছিল, এখন এটা তিন স্তরের হয়েছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামার ওপর এর দাম নির্ভর করে। আমরা তো আর ভ্যাট কমাতে-বাড়াতে পারি না। এটি এনবিআরের বিষয়। ওদের আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। দেখা যাক কী হয়।’

এ বিষয়ে জানার জন্য এনবিআরের সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে গত প্রায় দেড় মাস ধরে চালের বাজারে অস্থিরতা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারিভাবে সাড়ে চার লাখ টন এবং বেসরকারিভাবে ৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব চালের বড় একটি অংশ চলতি মাসেই বাজারে প্রবেশ করবে এমন খবরে বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল কেজিপ্রতি মোটা চালে ২ টাকা কমে ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২ টাকা কমে কেজিপ্রতি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৩ টাকা দরে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আমদানির চাল বাজারে এলে দাম আরও কমতে পারে।

ভারত সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় সাড়ে তিন মাস দেশে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। গত ৪ জানুয়ারি থেকে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করলে পণ্যটির দামে ধস নামে। পরে বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে আপাতত নতুন করে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে পেঁয়াজের বাজারে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৮-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ২৬-২৭ টাকা। এছাড়া তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ২৪ টাকা দরে। খুচরায় বাজার ও মানভেদে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এখন শীতের সবজির ভরা মৌসুম চলছে। তাই বাজারে সরবরাহও ভালো। তুলনামূলক কম দামেই মিলছে সব ধরনের সবজি। বাজারে কেজিপ্রতি শিম ও বেগুন ৩০-৪০, পেঁপে ২৫-৩০, গাজর ও শসা ৪০, শালগম ও মুলা ২০-৩০ এবং টমেটো ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে কেজিপ্রতি ছোট আকারের রুই-কাতলা ১৯০-২৩০ এবং বড় আকারের রুই-কাতলা ৩০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৪০-১৬০, পাঙ্গাশ ১৪০, পাবদা ৪০০-৪৫০, সরপুঁটি ২০০-২৫০, চিংড়ি ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত