অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক যুবলীগ নেতা কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমী রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের এক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই’ এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। মামলার তদন্তে আনিসুর রহমানের নামে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৬ টাকা ও সুমী রহমানের ২ কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
প্রণব কুমার আরও জানান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে র্যাবের অভিযানে ঢাকার বিভিন্ন স্পোর্টিং ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে। ক্যাসিনোকাণ্ডসহ নানা অনিয়মে সংগঠনটির সামনের সারির কয়েক নেতা গ্রেপ্তার হন। সে সময় কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে এলে আত্মগোপন করেন কাজী আনিস। পরে ১১ অক্টোবর তাকে বহিষ্কার করে যুবলীগ। একই বছরের ২৯ অক্টোবর কাজী আনিস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করে দুদক। আনিসের বিরুদ্ধে মামলায় ক্যাসিনো কারবারের মাধ্যমে ঘোষিত আয়ের বাইরে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।
অপরদিকে তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান চার্জশিটে আসামি সুমি রহমানের নামে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য তুলে ধরেন। বর্ণিত সম্পদের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য বা বৈধ আয় দেখা যায় মাত্র ২ লাখ টাকা। তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায় প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ টাকা। এক্ষেত্রে তার স্বামী কাজী আনিস অবৈধ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে স্ত্রীর হিসাবে স্থানান্তরসহ স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার সুপারিশের আলোকে আসামি সুমি রহমান ও তার স্বামী কাজী আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দ-বিধির ১০৯ ধারায় কমিশন কর্র্তৃক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।
