প্রায় ৪০ বছর আগে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সাবেক সামরিক শাসক প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া মামলার আরেক আসামি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ মারা যাওয়ায় তাকেও এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত ১২ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গতকাল শুক্রবার আদালতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির জন্য আদালত ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এরশাদ ও লতিফ ছাড়া মামলার অন্য তিনজনকে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসের। তিনজনই উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় চট্টগ্রামে একদল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। এ ঘটনার পর মেজর জেনারেল মঞ্জুর পুলিশের হাতে আটক হন। ১ জুন পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেওয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার এক যুগ বেশি সময়ের পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন মঞ্জুরের ভাই আবুল মনসুর। ওই বছর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ১৮ বছর মামলার বিচার কার্যক্রম ঝুলে থাকে। এ সময়ে এ মামলায় বিচারক বদল হয় ২২ বার।
২০১২ সালের ২ অক্টোবর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দেন এরশাদ। সেখানে এ ঘটনায় তার কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন। অন্য আসামি কাজী এমদাদুল হকও আদালতে লিখিত বক্তব্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ২৮ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত।
যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি মামলার বিচারক ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন। তবে রায়ের আগে বিচারক বদল হয়ে যাওয়ায় রায় ঘোষণা আটকে যায়। নতুন বিচারক নতুন করে যুক্তিতর্কের শুনানি শুনবেন বলে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের জানান। ওই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আসাদুজ্জামান খান প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত অধিকতর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়।
