দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গত প্রায় সাড়ে আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে এদিন রোগী শনাক্তের হারও ছিল সাড়ে ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৫৭৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই সংখ্যা গত ৮ মাস ১৯ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে গত বছর ২ মে ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে কম ৫৫২ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন ১২ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার গত ৯ মাস ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছর ৪ এপ্রিল এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যদিও তখন দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা ছিল ৫শ’রও কম। মে’র পর থেকে দেশে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা শুরুর পর গতকালেরটাই সর্বনিম্ন শনাক্তের হার।
শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১৬ জনের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব।
এদিকে গত এক সপ্তাহে দেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লেও শনাক্ত কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে মৃত্যু। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ এক সপ্তাহে (১০-১৬ জানুয়ারি) ৯৯ হাজার ৬০৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ৬৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৯৪ হাজার ৯৯৭টি পরীক্ষায় ৬ হাজার ১৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এছাড়া শেষ সপ্তাহে ১২৭ মৃত্যুর বিপরীতে আগের সপ্তাহে মারা গিয়েছিল ১৫৭ জন। শতকরা হিসাবে শেষ সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে পরীক্ষা বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৫ ভাগ এবং শনাক্ত ৮ দশমিক ৩৪ ভাগ, সুস্থ ১১ দশমিক ৬৭ ভাগ ও মৃত্যু ১৯ দশমিক ১১ ভাগ কমেছে।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩১৫তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ১৯৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৫৬টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং ১১৫টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ২১২টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ২১৫টির। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬৩৩ রোগী সুস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৮৩ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ ও নারী ৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩, চট্টগ্রামে ৬ এবং রংপুরে ২ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১২, ৫১-৬০ বছরের ৪, ৪১-৫০ বছরের ৩, ৩১-৪০ বছরের ১ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ১ জন। ২১ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৯৭৬ ও নারী ১ হাজার ৯০৭ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৮০ ও নারী ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৬৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৪৭, খুলনায় ৫৪২, রাজশাহীতে ৪৫০, রংপুরে ৩৫৩, সিলেটে ৩০০, বরিশালে ২৪০ এবং সর্বনিম্ন ১৮৩ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৩৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ১৯২ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৬ হাজার ৯০২ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩৮১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ১২টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৯৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২১০টিতে।
