সাংবাদিকদের ইসি সচিব

সুষ্ঠু নির্বাচনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই কাউন্সিলর হত্যা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০২:০০ এএম

সুষ্ঠু নির্বাচনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি অপশক্তি বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থীকে হত্যা করেছে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজয় মিছিল বের করা নিষেধ ছিল। তারপরও প্রার্থী বিজয় মিছিল বের করেন। ফলে এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা কারও কাম্য নয়।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনী-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত বিজয়ী কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম (৪৫)। এ প্রসঙ্গে মো. আলমগীর বলেন, ‘সারা দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হয়েছে এ খবর আপনারা (সংবাদকর্মী) লিখেছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি ওই প্রার্থী বিজয় মিছিল বের করার পরই একজন দুষ্কৃতকারী তাকে হত্যা করেছে এটা নিন্দনীয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি অপশক্তি এ কর্মকাণ্ড করেছে।’ দ্বিতীয় ধাপে অর্ধেক এলাকায় ভোটে ‘জোর-জবরদস্তিসহ’ বেশকিছু অভিযোগে উঠে। গাইবান্ধায় ভোট শেষে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম নিয়ে ফেরত আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সহিংসতা বাড়ায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটল। কারও কোনো অবহেলা আছে কি না।’

এক প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ‘মিছিল যারা বের করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে করেননি। অন্য জায়গায় করেছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ ছিলেন না। আমার নিরাপত্তা আগে আমাকে নিশ্চিত করতে হবে। তারপর না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করবে। আমি যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে রাত ১টার সময় যেখানে ছিনতাই হয় সেখানে ঘোরাফেরা করি টাকা-পয়সা নিয়ে, তাহলে তো ছিনতাই করবেই। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে কী করবে?’

নতুন ভোটার ১৪ লাখ ৬৫ হাজার : খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। খসড়া তালিকায় নতুন ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, ‘২০১৯-২০ সালের হালনাগাদে নতুন ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১ হাজার ৯৮৩, নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে আবেদন করেছেন ১৫ জন।’ কারও কোনো তথ্য ভুল থাকলে বা সংশোধন করার প্রয়োজন হলে, তা সংশোধনের জন্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত ইসির তালিকায় মোট ভোটার রয়েছে ১১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৩, নারী ভোটার ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৭০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৭৫ জন।

প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সেটি হয়নি। ২০১৯ সালে ৬৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন। সে অনুপাতে এবার নতুন ভোটার অনেক কম।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য না নেওয়ায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন হয়নি। সারা বছরই উপযুক্ত ব্যক্তি ভোটার হতে পারেন। আর ২০১৯ সালে ১৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ পূর্ণ হয়েছে, তাদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া এখন জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিও কম।’

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় নিজেদের চ্যানেলে মৃত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করবে। খসড়া তালিকার বিষয়ে দাবি-আপত্তি থাকলে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ভোট পড়েছে ৬১.৯২% : দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত শনিবার অনুষ্ঠিত দেশের ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয়। সেখানে ভোটার ছিলেন ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৮১ জন। এর মধ্যে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গতকাল ইসি সচিবালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।

৬০ পৌরসভার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদরের একটি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় ফলাফল নির্ধারিত হয়নি। তবে সেখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এগিয়ে আছেন। বাকি পৌরসভাগুলোর মধ্যে ৪১টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আরও চার পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির ৪, জাতীয় পার্টির ১, জাসদের ১ ও ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন শনিবারের ভোটে।

কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঢাকার সাভার পৌরসভায়। এ পৌরসভায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ভোটের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৬৩ হাজার ১৭৯ জন। ভোটের হার ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এই পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভায়। এ পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এখানে ১১ হাজার ৮৬৭ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১০ হাজার ৯২টি। এ পৌরসভায় ব্যালটে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত