পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জীবনধারা সংস্কৃতি ভাষা ও তাদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, ভেবেছেন ও সুধীমহলে তুলে ধরেছেন কবি হাফিজ রশিদ খান। তার কবিতা, প্রবন্ধ ও গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে পাহাড়ি জনপদ ও মানুষের যাপন-সংস্কৃতি ও সাহিত্য।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার ‘আদিবাসী সাহিত্যের দিগবলয়’ নিয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়েছেন হাফিজ রশিদ খান। প্রবন্ধের বইটি বের করেছে চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন আল নোমান।
বইটি প্রসঙ্গে ফ্ল্যাপ থেকে জানা যায়, ‘বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা ও সমতলের আদিবাসীরা প্রায় ৩০টির মতো ভাষায় কথা বলে। তাদের নৈমিত্তিক জীবনযাপনের সঙ্গে ভাষাগুলোর রয়েছে মরমের যোগ। আছে অনেক ভাষার বর্ণমালা ও চিন্ময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। হাফিজ রশিদ খানের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও বুদ্ধিবৃত্তির সমন্বিত রূপ এ গ্রন্থ। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের মন ও মেজাজ, তাদের সৃজন ও স্বপন, তাদের আনন্দ ও বিষাদের এ যেন এক কোষগ্রন্থ।’
‘আদিবাসী সাহিত্যের দিগবলয়’ হাতে পেয়ে লেখক বলছেন, ‘প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ভুবনের পরিপাশ এখানে মূর্ত হয়েছে খুব কাছের অবলোকনে। সেই কেন্দ্রবিন্দু থেকেই এখানকার আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক বাস্তবতাও ডালপালা মেলেছে। মহান এম এন লারমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মং ঞো হ্লা অং, শিল্পী অরুণ সারকীসহ অজস্র মানুষের মুখ এখানে ভেসে আছে ভালোবাসার অঙ্গীকারে। সেই ভালোবাসার কেন্দ্রে কেবলই জলের মতো ঘুরে-ঘুরে কথা বলে এইসব দেশজ মানুষেরা। তাদের বহুমাত্রিক মনোজগৎ কোনো দুঃস্বপ্নের কথা বলে না। জীবনের বৈচিত্র্যমণ্ডিত সৌন্দর্যের কথাই বলে। চলুন, এই নিবিড় সৌন্দর্যে সিনান করি আর জানি দেশজ প্রতিবেশী জীবনধারার অনেক কিছুই, ২৪টি প্রবন্ধের বুনোটের ভেতরে।’
বইটির দাম রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। তবে চন্দ্রবিন্দুর ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইট থেকে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ৩০০ টাকা দিয়ে পাঠকেরা কিনতে পারছে। এ ছাড়া ঢাকায় কনকর্ড এম্পোরিয়াম কমপ্লেক্সে ‘দেশলাই’ এর শো রুমে পাওয়া যাবে। অর্ডার করা যাবে রকমারিতেও।
