হাতিয়ায় বিবস্ত্র করে পল্লী চিকিৎসককে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:০৩ এএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক পল্লী চিকিৎসককে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হচ্ছে মোল্লা গ্রামের জিয়া বাহিনী প্রকাশ জিহাদ (৩০), আদর্শ গ্রামের ফারুক হোসেন (৩০), একই গ্রামের আবু তাহের (২৭), নবীর উদ্দিন (৩২) ও মিয়াজী গ্রামের আলমগীর হোসেন (৪০)।

পুুলিশ সুপার জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ব্যক্তি ও নির্যাতনকারীদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তারা জানান, ১ জানুয়ারি অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে সন্দেহে স্থানীয় লোকজন এক নারী ও এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করে। মহিউদ্দিন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে পুনরায় আটক করে টেনেহিঁচড়ে কিছু উত্তেজিত জনতা নির্যাতন করে। এ সময় এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল বখাটে যুবক অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে ওই পল্লী চিকিৎসক ও একজন গৃহবধূকে মারধর করে। পরে তাদের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনাটি তারা মোবাইলে ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় নির্যাতনকারী পল্লী চিকিৎসক মহিউদ্দিন গত রবিবার থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করলে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ তাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার জিহাদ, ফারুক, এনায়েত, ভুট্টো মাঝি ও ফারুক হোসেনকে আসামি করে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছেন হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম ফারুক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত