করোনার ভ্যাকসিনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনার ভ্যাকসিনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করব আমাদের দেশে যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না দেখা দেয়।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘কভিড-১৯ স্বাস্থ্য বুলেটিন-২০২০’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ওষুধে সাইড ইফেক্ট থাকতে পারে। আমরা একটি ওষুধ গ্রহণ করলেও সেটার গায়ে লেখা থাকে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। আবার নাও হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনেও হয়েছে। ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেন না হয় তার দিকে আমাদের গুরুত্ব থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলার দলিল। যেখানে গত ৯ মাসের করোনা মোকাবিলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কভিড বারে বারে আসবে না। এই ইতিহাস তুলে ধরা দরকার। আগামী প্রজন্ম শিক্ষা নিতে পারবে, কীভাবে একটা মহামারী মোকাবিলা করা যায়। আমরা বুঝতে পারব, কে আমাদের বন্ধু, কে আমাদের শত্রু।’
এর আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ভ্যাকসিন দেওয়ার সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। টিকা বিতরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুসরণ করা হবে। প্রথমে ফ্রন্টলাইনার চিকিৎসক-নার্সরা টিকা পাবেন। এছাড়া বয়স্ক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে ডিআরইউর সব সদস্যও ভ্যাকসিন পাবেন।’
করোনাকালে ডিজিটাল সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ৮০ শতাংশের বেশি করোনা রোগী টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছেন। টেলিমেডিসিন সেবার জন্য কল এসেছে ২ কোটি ৩৬ লাখ। এ সেবা প্রদানে চার হাজার ডাক্তার যুক্ত রয়েছেন। তারা বিনা পয়সায় এ সেবা দিয়েছেন। ৩৩৩ সহ সরকারের টেলিমেডিসিন সেবায় এসব কল এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পড়ৎড়হধ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে দেড় কোটি ভিজিট হয়েছে। সেখানে করোনা মোকাবিলায় তথ্য নিয়েছেন ভিজিটররা। ফলে বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার হয়নি। করোনার তথ্য সেবা নিশ্চিত করতে সব সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের কাজ করা হয়েছে। সার্চ ইঞ্জিনে বাংলা ভাষায় তথ্য দেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্য বুলেটিন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আজ যে বুলেটিন তৈরি করা হয়েছে এটা আরও আপডেট করা যেত। করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিনিয়ত তথ্য আপডেট হচ্ছে। কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেক তথ্য ছিল। যা এ বুলেটিনে সংযুক্ত করা হয়নি।’
আমলাদের নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ড ও বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। তিনি বলেন, ‘অনেক আমলা তাদের নিজেদের দায়িত্ব বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মতো কথা বলছেন। একক পেশা হিসেবে চিকিৎসকরাই অধিক মৃত্যুবরণ করেছেন। তবুও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে ৩১ জনের মধ্যে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকিরা আমলা ও প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য শাখার লোকজন।’ এ সময় সরকারের আমলা ও প্রশাসনের লোকদের কথা বলার মাধ্যমে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার প্রয়াস বাদ দিয়ে মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা করার অহ্বান জানান প্রবীণ এ চিকিৎসক।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি ও কভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘ফাইজারের ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নেতিবাচক আলোচনার কারণে মানুষের মধ্যে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। এর অবসান ঘটাতে গণমাধ্যমকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। যেভাবে তারা করোনার ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
