বাসের পাল্লাপাল্লির বলি তরুণ দম্পতি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:২৫ এএম

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে আজমেরী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আকাশ ইকবাল (৩৩) ও তার স্ত্রী মায়া হাজারিকা মিতু (২৫) নিহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের পদ্মা অয়েল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকাশ দম্পতি একমাত্র মেয়ে আফরানকে (৪) নিয়ে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেকে ভাড়া থাকতেন। দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় মেয়েকে নানা-নানির কাছে রেখে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যেতেন। এর মধ্যে স্ত্রীকে আগে নামিয়ে দিয়ে নিজের কর্মস্থলে যেতেন আকাশ। দিন শেষে তাকে নিয়ে বাসায় ফিরতেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, যাত্রীবাহী দুই বাস সড়কে প্রতিযোগিতা করছিল। পাল্লা দিতে গিয়ে আজমেরী পরিবহনের বেপরোয়া গতির বাসটি আকাশের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আকাশ ও মিতু। এ ঘটনায় পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও চালক ও তার সহকারী (হেলপার) পালিয়ে গেছে।

আকাশের ফুপাতো ভাই মো. মিজানুর রহমান মিন্টু জানান, ফরিদপুর সদর থানার ধুলদি গ্রামের শেখ জাফর ইকবালের ছেলে আকাশ। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। আকাশের স্ত্রী মায়ার বাড়িও একই এলাকায়। উত্তরায় একটি ডেভেলপার কোম্পানিতে আকাশ এবং বিমানবন্দরে হোটেল লেক ক্যাসেলে চাকরি করতেন মায়া।

আকাশের ছোট ভাই কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাই-ভাবি তার শ্বশুরবাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন। ফলে একমাত্র মেয়ে আফরানকে নানা-নানির কাছে রেখে দুজন অফিস করতেন। আজও (গতকাল) ভোরে অফিসে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সড়কে দ্রুতগামী দুটি বাস পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিল। এ সময় আজমেরী পরিবহনের বাসটি আমার ভাই-ভাবিকে চাপা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাদ মাগরিব মোল্লারটেকে বাসার পাশে প্রথম জানাজা হয়। মরদেহ গ্রামে নিয়ে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’

নিহত মিতুর বাবা মানিক মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়ে নাই; জামাইও নাই। আমি ছোট্ট নাতনিকে কী বুঝ দেব, তাকে কীভাবে সামলাব আল্লাহই ভালো জানেন। তার নানি তো শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।’

বিমানবন্দর থানার এসআই ইমরান হোসেন জানান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মিতুর বাবা মানিক মিয়া বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি। বাসের চালক ও তার সহকারীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত