ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মনির্ভর কনটেন্ট প্রকাশ ও পরিবেশনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও রাজস্ব আদায়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। তথ্য সচিব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে আগামী তিন মাসের মধ্যে খসড়া তৈরি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্তে বিটিআরসি ও পুলিশের দেওয়া একটি প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে বিটিআরসির পক্ষে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) তুষার কান্তি রায়। এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।
ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে জানান, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে কীভাবে রাজস্ব আদায়, এগুলো নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা যায়, সে বিষয়ে দেশে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি। এটি করার জন্য গত বছরের ৭ জুলাই একটি কমিটি করে দেয় সরকার। তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত তথ্য সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিটিআরসির মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) একজন প্রতিনিধি ছাড়াও তিনি (রেজা-ই-রাকিব) কমিটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে আদালতে দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট।’
রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ জানান, গত বছর একটি ইংরেজি দৈনিকে এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের গ্রাহকের কাছ থেকে নেটফ্লিক্স বছরে ১৮০ কোটি টাকা আয় করে। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। কিন্তু নীতিমালা না থাকায় তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারছে না সরকার। তিনি বলেন, ‘অনেক ভিডিও কনটেন্ট এসব প্ল্যাটফর্মে ছাড়া হচ্ছে, যেটি আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে মানানসই নয়। ফলে এর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চ আদালতের এ আদেশ এলো। কমিটি নির্ধারণ করবে কীভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা যায়।’
