জুমার খুতবায় জঙ্গিবাদের কুফল বয়ানের আহ্বান ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১০:২০ পিএম

জুমার নামাজের খুতবার বয়ানে এবং প্রতিনিয়ত মসজিদে নামাজের আগে উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে জনগণকে জানাতে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক এমপি। এতে মানুষের মধ্যে জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে ‘সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে ইসলামিক বিজ্ঞদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলাম কখনোই উগ্রবাদ সমর্থন করে না। প্রতিনিয়ত মসজিদে নামাজের আগে বয়ানে জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। বারবার এখানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলে অনেকের মধ্যেই সচেতনতাবোধ জাগ্রত হবে। একমাত্র জনগণ সচেতন হলে জঙ্গিবাদ, মাদক থেকে অনেকাংশে রেহাই পাওয়া যাবে। উগ্রবাদ দূরে থাকলে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। উগ্রবাদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ওয়াজে উসকানিমূলক বক্তব্য বিষয়ে ভাবছে পুলিশ

সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ওয়াজ মাহফিলে যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন তাদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ভেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে আল কায়দার কোনো অস্তিত্ব নেই, এমনকি কোনো শাখাও নেই। বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার চালিয়ে অনেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, যে লোকটির ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান রয়েছে সে কখনোই জঙ্গিবাদে জড়ায় না। যাদের ইসলাম সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান, তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। আলেমরা বিভিন্ন সময় বয়ানের মাধ্যমে জনগণকে জঙ্গিবাদ, মাদক সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আপাতত বাংলাদেশে বড় কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকি নেই। তবে সচেতন থাকতে হবে কেউ যেন নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাতে না পারে।

জঙ্গিবাদ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভেদ রয়েছে বলে মন্তব্য করে সিটিটিসি প্রধান বলেন, জঙ্গিবাদ যেহেতু একটি আদর্শের বিষয়, যারা জেনে বুঝে রাজনৈতিক মদদে জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ সীমিত। যারা না বুঝে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় ভুল পথে আদিষ্ট হয়, তারা যদি নিজেদের ভুল বুঝতে পারে তাহলে তাদের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। কারাগারগুলোতে কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে আলেম সমাজসহ সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের পর আলেমদের নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা পুলিশ বাহিনীর কোনো বক্তব্য নয়। এটা ওই কর্মকর্তার নিজস্ব বক্তব্য। সেমিনারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও আলেম-ওলামারা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত