দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে। তবে এদিন শনাক্তের হার কমেছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২০ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। আগের দিন মারা গিয়েছিল ১৬ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যু ৭ হাজার ৯৪২ জনে পৌঁছল। গতকাল মৃতদের সবার বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ১১ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭০২ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ৬৯৭ জন। এদিন শনাক্ত পাঁচজন বাড়লেও শনাক্ত হার কমেছে। কারণ এদিন পরীক্ষা আগের দিনের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনের মধ্যে চার দিনই পাঁচের কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩১৮তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ১৯৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৫৬টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং ১১৫টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৫৭৪টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৭টির। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬৮২ রোগী সুস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৫৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৯৪২ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫০ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪ ও নারী ৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১, চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহীতে ২ এবং খুলনায় ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৫ এবং ৫১-৬০ বছরের ছিল ৫ জন। ১৮ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ১৮ ও নারী ১ হাজার ৯২৪ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৭৭ ও নারী ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪০৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৫৭, খুলনায় ৫৪৪, রাজশাহীতে ৪৫৪, রংপুরে ৩৫৪, সিলেটে ৩০১, বরিশালে ২৪০ এবং সর্বনিম্ন ১৮৬ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫৪৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ৭২ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৬ হাজার ৭০১ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩৮১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৮০টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৯৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২৫৭টিতে।
