প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ বাড়ছে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০১:১২ এএম

করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর মেয়াদ আরও বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে এর প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও অন্যান্য তথ্য চেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে। এসব তথ্য পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত  সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্যাকেজগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একটি খসড়া তৈরির পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত  সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তারা তৈরি করে রেখেছে।

সূত্র জানায়, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক ও নীতি সহায়তা বাবদ এখন পর্যন্ত ৩১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কমসুদে ঋণনির্ভর প্রণোদনা এবং বাকি ২১টি হচ্ছে নীতিসহায়তা। এছাড়া আরও দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অনুমোদন করেছেন।

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা হয় রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল। পরে এর আকার আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। দুই বছরের মধ্যে প্রথম ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৮টি সমান কিস্তিতে এ ঋণ শোধ করার কথা। ঋণের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এ প্যাকেজের অর্থ ছাড়ের ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। সে হিসেবে চলতি মাস থেকে কিস্তি পরিশোধের কথা। এর আগেই বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। তারা বলেছে, রপ্তানি খাত এখনো করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এছাড়া করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় রপ্তানি কার্যক্রম নতুন করে আবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি এখন পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কিছুটা বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

বড় শিল্প ও সেবা খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। পরে এর আকার দুই দফায় বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ তহবিল থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেজটি ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি অংশ বাস্তবায়নে এর মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ থেকে মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পেলেও কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন খুবই কম। এটির  মেয়াদও বাড়িয়ে আগামী মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।

ঋণের বিপরীতে কিস্তি আদায় ও ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর আর বাড়ানো হয়নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এর মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিন্তাভাবনা করছে। কৃষি খাতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে বিতরণ করা ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ। এর মধ্যে কৃষক দেবে ৪ শতাংশ। বাকি ৫ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। গত ১ এপ্রিল থেকে যেসব কৃষিঋণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রণোদনার আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ঋণ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে ঋণ বিতরণের হার খুবই কম। যে কারণে এর মেয়াদও বাড়ানো হচ্ছে। 

পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলের আকার ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন, উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নিতে পারছেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার হবে ৭ থেকে ৮ শতাংশ। এটিও চলমান থাকবে। অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের ঋণ দিতে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হবে। ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার যেখানে ২৫ শতাংশ, সেখানে এ তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকরা। এটি প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। নীতিসহায়তার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ প্রণোদনাই বহাল রাখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত