‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে আ.লীগে অস্বস্তি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৩৭ এএম

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের ৩৫টিতেই কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে সদ্য সাবেক ১১ কাউন্সিলরও রয়েছেন, যারা এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি। নিজ নিজ ওয়ার্ডে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে তারা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা বলছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে নিজেরাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চসিক নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচন করছেন, তারা অটোমেটিক বহিষ্কার হয়ে যাবেন। কারণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সাক্ষাৎকারে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বড় কথা দল যাকে সমর্থন দিয়েছে, আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। আশা করছি, মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এখনো দল সমর্থিত প্রার্থীর বিপক্ষে যারা ভোটের মাঠে আছেন, তাদের নিবৃত্ত করতে আমরা কাজ করছি। শেষ পর্যন্ত তারা বসে না গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, চসিকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬১ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫৬ প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৩৫টি ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত ১১ জন সাবেক কাউন্সিলরও রয়েছেন।

চসিকের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থী স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি গাজী মো. শফিউল আজিমের সঙ্গে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। একইভাবে ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী মহানগর যুবলীগের সদস্য মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আবছার মিয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীম, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইসমাইলের সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর সাবের আহমেদ,  ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলালের সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমদ মানিক, ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী আবদুস সবুর লিটনের সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর এস এম এরশাদ উল্লাহ, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী মো. শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে বিদ্রোহী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের (যিনি সম্প্রতি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন) ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা হাসান মুরাদ বিপ্লব।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আগামী ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ ভোটার ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কমিশন থেকে ১১ হাজার ইভিএম পাঠানো হয়েছে। এসব ইভিএম সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি কেন্দ্রে কেন্দ্রে মক ভোটিং হবে। ভোটের আগের দিন এগুলো কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত