খাসজমি দখল

আউয়ালের বিরুদ্ধে তিন মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন দুদকের

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৪১ এএম

জালিয়াতির মাধ্যমে খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণসহ নানা অভিযোগে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমিশনের এক সভায় এসব অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বরিশালে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে মামলা ৩টি করেন। এক মামলায়  আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হয়। মামলার বাদী আলী আকবর নিজেই মামলাগুলোর তদন্ত করে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিশন অনুমোদন দেওয়ার পর শিগগিরই তা আদালতে দাখিল করা হবে।

আউয়ালের বিরুদ্ধে এক মামলায় অভিযোগ, তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৬ জন ভুয়া ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে সরকারি খাস জায়গা লিজ নিয়ে স্ত্রীর মালিকানা দেখিয়ে সেখানে ৩ তলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবনটি পিরোজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে ভাড়া দিয়েছেন। এই অভিযোগে আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় বলে জানান প্রণব। একই প্রক্রিয়ায় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা ডাকবাংলোর কাছে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের অভিযোগে আউয়ালের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়।

আউয়ালের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলায় অভিযোগ, পিরোজপুর শহরের খুমুরিয়া এলাকার রাজারপুকুর নামে পরিচিত জায়গায় ৪৪ শতক সরকারি খাস জমি ঘিরে দেয়াল নির্মাণ করে দখলে রেখেছেন তিনি।

এছাড়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় ৪৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ আলাদা দুটি মামলা করে দুদক। মামলায় আউয়ালের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকার এবং লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এই দুই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

পিরোজপুর-১ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হন আউয়াল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত